বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় চালুর লক্ষ্যে এক বড় ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) অন্তত ৪০টি দেশের নেতাদের নিয়ে একটি ভার্চ্যুয়াল বৈঠকের আয়োজন করেছে দেশ দুটি। এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য হলো প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের পক্ষ থেকে বিশেষ এক উদ্যোগে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছে বলে দাবি করেছে ভারত। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই আমন্ত্রণ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আন্তর্জাতিক এই সংকটে ভারতের অংশগ্রহণ এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রসীমায় স্থিতিশীলতা রক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু প্রণালির মধ্য দিয়ে পরিবাহিত হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে তেহরান বিদেশি জাহাজের জন্য কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় গত সোমবার, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগামী ও সেখান থেকে ছেড়ে আসা জাহাজের ওপর নতুন করে অবরোধ আরোপ করে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈঠকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো ইরানে যুদ্ধবিরতি সমর্থনের পাশাপাশি একটি ‘আন্তর্জাতিক মিশন’ গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করবেন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং বাণিজ্যিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই সংকট দ্রুত সমাধান না হলে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে এর দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তা এই প্রণালির ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments