Image description

বাংলা গানের কিংবদন্তি সুরকার, সংগীত পরিচালক ও কালজয়ী কণ্ঠশিল্পী লাকী আখান্দের নবম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৭ সালের এই দিনে মরণব্যাধি ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান সুরের এই জাদুকর। লাকী আখান্দ সশরীরে আমাদের মাঝে নেই, তবে তাঁর রেখে যাওয়া সুর ও সংগীতের মায়াজাল আজও কোটি শ্রোতার হৃদয়ে অম্লান হয়ে আছে।

লাকী আখান্দ ছিলেন একাধারে গায়ক, সুরকার, গীতিকার ও সংগীত পরিচালক। ১৯৫৬ সালের ১৮ জুন ঢাকায় জন্মগ্রহণ করা এই মহান শিল্পীর সংগীতে হাতেখড়ি হয়েছিল মাত্র পাঁচ বছর বয়সে বাবার মাধ্যমে। শৈশবেই টেলিভিশন ও রেডিওতে শিশুশিল্পী হিসেবে গান গেয়ে নিজের প্রতিভার জানান দিয়েছিলেন তিনি।

সংগীতের ইতিহাসে লাকী আখান্দের অর্জন ছিল বিস্ময়কর। মাত্র ১৪ বছর বয়সে তিনি এইচএমভি পাকিস্তানের সুরকার হিসেবে এবং ১৬ বছর বয়সে এইচএমভি ভারতের সংগীত পরিচালক হিসেবে কাজ করার বিরল গৌরব অর্জন করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি বাংলাদেশ বেতারের সংগীত পরিচালক হিসেবেও দীর্ঘকাল দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮৪ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর জনপ্রিয় একক অ্যালবাম ‘লাকী আখান্দ’। তিনি জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘হ্যাপী টাচ’–এর অন্যতম কান্ডারি ছিলেন। তাঁর ছোট ভাই অকালপ্রয়াত হ্যাপী আখান্দও ছিলেন দেশের সংগীতের আরেক নক্ষত্র।

লাকী আখান্দের কণ্ঠ ও সুরে কালজয়ী সব গানের তালিকা বেশ দীর্ঘ। ‘এই নীল মনিহার’, ‘আবার এলো যে সন্ধ্যা’, ‘আমায় ডেকো না’, ‘মামনিয়া’, ‘আগে যদি জানতাম’ ও ‘হৃদয় আমার’–এর মতো গানগুলো আজও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে সমাদৃত। কেবল নিজের জন্য নয়, অন্য গুণী শিল্পীদের জন্যও তিনি তৈরি করেছেন কালজয়ী সব গান। কুমার বিশ্বজিতের ‘যেখানে সীমান্ত তোমার’, সামিনা চৌধুরীর ‘কবিতা পড়ার প্রহর এসেছে’ কিংবা হ্যাপী আখান্দের ‘কে বাঁশি বাজায় রে’—সবই তাঁর অমর সৃষ্টি।

লাকী আখান্দের চলে যাওয়া বাংলা সংগীত জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি। তবে তাঁর কালজয়ী সুরগুলো অনন্তকাল বাংলা গানের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করে যাবে। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং ভক্তরা তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন।

মানবকণ্ঠ/আরআই