Image description

শনিবার রাতে ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলে আয়োজিত হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারে বন্দুকধারীর হামলাটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল একটি ‘জাতীয় বিপর্যয়’ সৃষ্টির সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা। মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের ডেপুটি ডিরেক্টর ম্যাথিউ কুইন এক বিবৃতিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন।

ম্যাথিউ কুইন বলেন, "সন্দেহভাজন বন্দুকধারী একটি জাতীয় বিপর্যয় সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল। তবে আমাদের স্তরবিন্যস্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার (layered security) শক্তিমত্তা আজ প্রমাণিত হয়েছে। হামলাকারীকে প্রতিহত করার জন্য সামনে আরও অসংখ্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ছিল।" 

তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, কঠোর নিরাপত্তার কারণেই বড় ধরনের কোনো ট্র্যাজেডি ঘটেনি।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, বন্দুকধারীকে আটক করার সময় একজন মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর আঘাত গুরুতর হলেও তিনি বেঁচে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, ওই এজেন্ট ছাড়া অন্য কোনো অতিথি বা সাধারণ নাগরিক এই ঘটনায় আহত হননি।

গুলির শব্দ শোনার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এবং সেখানে উপস্থিত মন্ত্রিসভার সদস্যদের বলরুম থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সক্ষম হন। এর ফলে তারা সরাসরি বিপদের হাত থেকে রক্ষা পান।

উল্লেখ্য যে, এই হামলার মাত্র কয়েক মিনিট আগে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বলেছিলেন যে, "আজ রাতে কিছু গুলি ছোড়া হবে (shots will be fired)"। যদিও তিনি এটি রূপক অর্থে বলেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, কিন্তু তার পরপরই বাস্তবে গোলাগুলি এবং একজন এজেন্টের আহত হওয়ার ঘটনা দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ও বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।

হামলাকারী বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। তার পরিচয় এবং সে কেন এমন ‘জাতীয় বিপর্যয়’ ঘটাতে চেয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে এফবিআই ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত শুরু করেছে। 

এদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ঘটনার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, হামলা সত্ত্বেও তিনি অনুষ্ঠানটি চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই নৈশভোজ পুনরায় আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।