Image description

সিলিকন ভ্যালির দুই প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ইলন মাস্ক ও স্যাম অল্টম্যানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিরোধ এবার আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালতে সোমবার শুরু হয়েছে এ বহুল প্রতীক্ষিত মামলার বিচারকাজ। মাস্কের অভিযোগ, স্যাম অল্টম্যান তাদের হাতে গড়া অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘ওপেনএআই’-এর মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে এটিকে মুনাফাভোগী ব্যবসায় পরিণত করেছেন।

মামলায় মাস্ক অভিযোগ করেছেন, স্যাম অল্টম্যান, ওপেনএআইয়ের প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান এবং এর প্রধান অংশীদার মাইক্রোসফট চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছে। সোমবার ওকল্যান্ডের একটি ফেডারেল আদালতে জুরি সিলেকশন বা বিচারক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়। চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে উভয় পক্ষই তাদের প্রাথমিক যুক্তি উপস্থাপন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এ বিচার প্রক্রিয়া দুই থেকে তিন সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে।

এ মামলার সাক্ষী হিসেবে সিলিকন ভ্যালির এক ঝাঁক তারকা ব্যক্তিত্ব উপস্থিত থাকতে পারেন। যার মধ্যে রয়েছেন খোদ ইলন মাস্ক, স্যাম অল্টম্যান এবং মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী সত্য নাদেলা। এছাড়া ওপেনএআইয়ের অভ্যন্তরীণ অনেক গোপন নথিপত্র ও ইমেইল আদালতে উপস্থাপন করা হতে পারে।

ওপেনএআই অবশ্য মাস্কের সব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ২০১৭ সালে মাস্ক নিজেই একমত হয়েছিলেন যে কোম্পানির অগ্রগতির জন্য একে মুনাফাভোগী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা প্রয়োজন। ওপেনএআইয়ের পালটা দাবি, ইলন মাস্ক ‘হিংসা’ এবং একসময় কোম্পানি ছেড়ে চলে যাওয়ার ‘অনুশোচনা’ থেকেই এ মামলা করেছেন। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, মাস্ক যে অর্থ দিয়েছিলেন তা কোনো বিনিয়োগ ছিল না বরং তা ছিল একটি অলাভজনক সংস্থায় কর-ছাড়যোগ্য অনুদান। তাই তিনি ওপেনএআইয়ের মালিকানা দাবি করতে পারেন না।

ওপেনএআইয়ের জন্য এ মামলার গুরুত্ব অপরিসীম। চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রতিষ্ঠানটি যখন শেয়ারবাজারে আসার (আইপিও) প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন এর সম্ভাব্য বাজারমূল্য ধরা হচ্ছে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন (১ লাখ কোটি) ডলার। মামলায় মাস্ক স্যাম অল্টম্যান ও গ্রেগ ব্রকম্যানের অপসারণ দাবি করেছেন। পাশাপাশি তিনি ১৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন, যা তার মতে ওপেনএআইয়ের অলাভজনক শাখায় পুনরায় বিতরণ করা উচিত। তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে আবারও একটি অলাভজনক সংস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার দাবিও তুলেছেন।

২০১৫ সালে মাস্ক, অল্টম্যান এবং আরও বেশ কয়েকজন প্রতিষ্ঠাতা মিলে ওপেনএআই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সে সময় মাস্ক প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার অর্থায়ন করেছিলেন। ২০১৭ সালের দিকে অল্টম্যানের সঙ্গে মাস্কের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ওপেনএআইয়ের ধীরগতিতে অধৈর্য হয়ে মাস্ক প্রতিষ্ঠানটির ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাতে ব্যর্থ হন। ২০১৮ সালে তিনি বোর্ড থেকে পদত্যাগ করেন এবং অর্থায়ন বন্ধ করে দেন।

মাস্ক বিদায় নেওয়ার পর ওপেনএআই অভাবনীয় সাফল্য পায়। বিশেষ করে ‘চ্যাটজিপিটি’ চালুর পর মাইক্রোসফটের কাছ থেকে শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ পায় তারা। স্যাম অল্টম্যান হয়ে ওঠেন এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের নতুন দাপুটে মুখ। ২০২৫ সালে আরও বিনিয়োগের লক্ষ্য নিয়ে রেগুলেটরদের অনুমোদনের মাধ্যমে ওপেনএআই একটি পূর্ণাঙ্গ মুনাফাভোগী করপোরেশনে রূপান্তরিত হয়।

মাস্কের দাবি, অল্টম্যানের এ বাণিজ্যিক তৎপরতা মানবতার কল্যাণে কাজ করার মূল লক্ষ্যকে ব্যাহত করেছে এবং এটি একটি পরিষ্কার ‘চুক্তি ভঙ্গ’। তার মতে, অল্টম্যান ও ব্রকম্যান নিজেদের নিয়ন্ত্রণ কাজে লাগিয়ে অন্যায়ভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। সিলিকন ভ্যালির এ আইনি লড়াইয়ের দিকে এখন তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্বের প্রযুক্তি খাত।