Image description

শহরের অসহনীয় যানজট এড়াতে আকাশপথে যাতায়াতের স্বপ্ন এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত শহর নিউইয়র্কের আকাশে প্রথমবারের মতো সফল উড্ডয়ন সম্পন্ন করেছে পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক ‘এয়ার ট্যাক্সি’। এখন থেকে অ্যাপের মাধ্যমে ডাকলেই মিলবে এই উড়ন্ত ট্যাক্সি, যা মুহূর্তেই যাত্রীকে পৌঁছে দেবে গন্তব্যে।

ইলেকট্রিক এই এয়ার ট্যাক্সিটির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে ‘জোবি এভিয়েশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি জন এফ কেনেডি (জেএফকে) ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে ম্যানহাটনের হেলিপোর্ট পর্যন্ত সফলভাবে ফ্লাইট পরিচালনা করে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সড়কপথে এই দূরত্ব পাড়ি দিতে যেখানে ১ থেকে ২ ঘণ্টা সময় লাগে, এয়ার ট্যাক্সিতে তা লেগেছে মাত্র কয়েক মিনিট।

উন্নত প্রযুক্তি ও সক্ষমতা: এই এয়ার ট্যাক্সিটি তৈরি করা হয়েছে ই-ভিটল প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে। এটি হেলিকপ্টারের মতো সরাসরি ওপরে উঠতে পারে এবং বিমানের মতো ডানায় ভর করে সামনে এগোতে পারে। এতে ৬টি বৈদ্যুতিক মোটর ও প্রপেলার রয়েছে, যা ৪টি শক্তিশালী ব্যাটারি প্যাক থেকে শক্তি পায়।

গতির পরিধি: এয়ার ট্যাক্সিটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩২২ কিলোমিটার গতিতে প্রায় ১০ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়তে সক্ষম। এতে একজন পাইলটসহ মোট পাঁচজন যাত্রী বসতে পারবেন। সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক হওয়ায় এটি যেমন শব্দহীন, তেমনি এতে কোনো কার্বন নিঃসরণ হয় না, যা ঘনবসতিপূর্ণ শহরের পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ সহায়ক।
জোবি এভিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জোবিন বেভার্ট বলেন, “নিউইয়র্ক সব সময় নতুন প্রযুক্তির পথপ্রদর্শক। এই উড়ন্ত ট্যাক্সিই বলে দিচ্ছে ভবিষ্যতের পরিবহন ব্যবস্থা কেমন হতে যাচ্ছে।”

বর্তমানে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) বিশেষ তত্ত্বাবধানে এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলছে। প্রতিষ্ঠানটি নতুন কোনো অবকাঠামো তৈরি না করে শহরের বিদ্যমান হেলিপোর্টগুলোই ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এই এয়ার মোবিলিটি খাতটি বর্তমান বড় এয়ারলাইনগুলোর মতোই জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। চীন, ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও দ্রুত এই সেবা চালুর তোড়জোড় চলছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

মানবকণ্ঠ/আরআই