বন্যা ও বজ্রপাতে গবাদিপশু মারা গেলেও ক্ষতিপূরণ দেবে সরকার: ত্রাণমন্ত্রী
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, হাওরাঞ্চলে কৃষকদের সুরক্ষায় সরকার বন্যাশ্রয় কেন্দ্র (শেড) ও বজ্রপাত নিরোধক টাওয়ার নির্মাণ করবে। বজ্রপাতের সময় কৃষকদের সতর্ক করতে এসব টাওয়ারে সিগন্যাল বা সাইরেনের ব্যবস্থা থাকবে। একইসঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, এখন থেকে বন্যা বা বজ্রপাতে গরু, মহিষ ও ছাগল মারা গেলেও সরকার কৃষকদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে।
মঙ্গলবার (৫ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউস মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তিন মাস মেয়াদী সহায়তা প্রদান কার্যক্রম উপলক্ষে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনীতিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিভাগীয় কমিশনার আশরাফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আরও বলেন, "বজ্রপাতে প্রাণহানির ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব নয়, তবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে দেওয়া আর্থিক সহায়তার পরিমাণ দ্বিগুণ করছি। নীতিমালায় সংশোধন এনে এবার গবাদিপশুর মৃত্যুর বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী হাওরের পরিস্থিতি নিয়ে শুরু থেকেই উদ্বিগ্ন এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরিতে স্বচ্ছতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। হাওরে আর কোনো নামমাত্র বা ঠিকাদার-পোষা প্রকল্প হবে না, বরং হাওরকে নিরাপদ উৎপাদন ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা যেন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে পৌঁছায়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতে দুর্যোগ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করছে।
সভায় জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সমর কুমার পালের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (অর্থ ও পরিকল্পনা) রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন, নূরুল ইসলাম, মো. কামরুজ্জামান, জেলা পরিষদ প্রশাসক মিজানুর রহমান চৌধুরী, বিএনপি নেতা আকবর আলী ও অ্যাডভোকেট শেরেনুর আলী প্রমুখ।
মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান। অধিদপ্তর থেকে দাবি করা হয় যে ৮০ শতাংশ ধান কাটা হয়ে গেছে, তবে জনপ্রতিনিধিদের দাবি—প্রায় ৫০ শতাংশ ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। তারা সঠিক তথ্য সংগ্রহের জন্য ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর আহ্বান জানান। পরে দুপুর ২টায় মন্ত্রী বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাতে সহায়তার চেক তুলে দেন।
উল্লেখ্য, চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলার ১৯৯টি হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছে, যার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৪ লাখ ৩ হাজার ৭২৪ মেট্রিক টন ধান। এর বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments