Image description

বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সৎ সাংবাদিকতাকে আজ সুরক্ষা দিতে হবে অসৎ সাংবাদিকতার হাত থেকে। নামমাত্র সাংবাদিকদের ভিড়ে ভাসমান সাংবাদিকদের ভিড়ে পেশাদার সাংবাদিকরা পথভ্রষ্ট হচ্ছে । একদিকে যেমন সমাজ রাষ্ট্র রাজনীতিকে প্রশ্ন করার ক্ষমতা হচ্ছে গণমাধ্যমের।

সে প্রধানমন্ত্রী হোক, রাষ্ট্রপতি হোক, মন্ত্রী হোক, ডিসি হোক, ইঞ্জিনিয়ার হোক, তার প্রতিটি কাজ নিরক্ষণ কড়া প্রশ্নবিদ্ধ করা সাংবাদিকদের কাজ। এই প্রশ্নবৃদ্ধ করার ক্ষমতাকে কেউ ব্ল্যাকমেইলের ইন্সট্রুমেন্ট হিসাবেই কাজে লাগাতে চান তখন পেশাদার সাংবাদিকরা বিপদের মধ্যে পড়ে যান। 

মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানটি মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আতিকুর রহমান টিপু'র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো.গোলজার হোসেন সঞ্চালনা করেন।

এ সময় তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকার ফ্যাসিবাদী রাজনীতি, স্বৈরাচারী সরকার স্বাধীন গণমাধ্যমের কন্ঠ রোধ করতে চায় এবং গণমাধ্যমে গদি সাংবাদিকতা তৈরি করতে চায়। যাতে তারা দেশ শাসন করবে তাদের খুশি মত, শোষণ করবে তাদের খুশি মত, লুট করবে তাদের খুশি মত, খুন করবে গুম করবে এবং তাদের এই অপকর্ম পক্ষে জনমত তৈরি করার জন্য একটি গণমাধ্যম কাজ করবেন । আবার কিছু গণমাধ্যম এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে নির্যাতিত হচ্ছেন নিপিরিত হচ্ছেনা তাদের কণ্ঠস্বরকে রোধ করে দেওয়া হচ্ছে নির্যাতন করা হচ্ছে । মামলা দেওয়া হচ্ছে । গণমাধ্যমের যে দায়িত্ব এবং ক্ষমতা তা একদিকে যেমন জনগণের পক্ষে ব্যবহার করা যায় ঠিক তেমনি এটাকে জনগণের বিরুদ্ধেও ব্যবহার করা যায়।


কেউ ব্যতিক্রম সত্য ভুল তথ্য চুক্তিভিত্তিক কোন তথ্য অবৈধ সরকারের মনগড়া তথ্য তখন সঙ্গত কারণেই সৎ সাংবাদিকরা মহান এ পেশাকে যারা দেশপ্রেম থেকে আকৃষ্ট হয়েছেন তারা বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েন। সেজন্য একটা সঠিক নীতিমালা করার সময় এসেছে। 

পত্রিকার মালিক সমিতির সাথে প্রধানমন্ত্রীর ইতিমধ্যে বৈঠক হয়েছে। আমরা দেশে একটি সুষ্ঠু গণমাধ্যম পরিবেশকে নিশ্চিত করতে চাই এবং সেই কারণেই কোন পত্রিকার কত ছাপা সংখ্যা এবং কোন টেলিভিশনের প্রচার সংখ্যা কত এ বিষয়ে আমাদের একটি স্বচ্ছ হিসাব থাকতে হবে। ভুল ছাপার হিসাবের নামে কোন সরকারি সুযোগ-সুবিধা আর পাবে না আমরা একটি সঠিক নীতিমালার ভিত্তিতে কোন সংবাদপত্র এবং টেলিভিশনের গ্রহণযোগ্যতা যতোটুকু আছে তার একটি ডিজিটাল ম্যানেজমেন্ট এর দিকে যেতে শুরু করব। আমরা স্বীকার করি এবং মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি সংবাদপত্র শিল্প জগৎ অন্য কোন শিল্প জগতের সাথে তুলনা করা যায় না।

গার্মেন্টসের শিল্প জগৎ কিংবা অন্য কোন শিল্প জগতের সাথে সংবাদপত্র শিল্প জগৎকে তুলনা করা হয়না সে কারণেই আমরা এই শিল্প জগতের উদ্যোক্তাদেরকেও সব ধরনের সহযোগিতা দিতে চাই। কেননা সংবাদপত্র শুধুমাত্র উদ্যোক্তাদের মুনাফার জন্য নয়। সংবাদপত্র টেলিভিশন কিংবা যেকোনো গণমাধ্যম যদি স্বাধীনভাবে কাজ করে তাহলে সমাজ রাজনীতি একটি লাগাতর জবাবদিহিতার মধ্যে চলতে বাধ্য থাকবে। আর যত বেশি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায় শাসনব্যবস্থা পরিচ্ছন্ন করা যায় সবচেয়ে বেশি লাভবান হয় দেশ এবং জাতি। সেজন্য এই শিল্প জগতে যারা বিনিয়োগ করেছেন কে কত বেশি লাভ করেছেন বা কত বেতন পেয়েছেন তার চেয়ে বড় কথা হচ্ছে এই পেশা এমন একটি পেশা যা সমাজকে ভারসাম্যপূর্ণ রাখতে পারে। এটি এমন একটি পেশা সমাজকে সঠিক পথে রাখতে পারে ভুল পথ থেকে প্রতিহত করতে পারে। এজন্য আমাদের প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আমরা স্বাধীন গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করব। আমরা গণমাধ্যমকে সুশৃঙ্খল করার জন্য কাজে হাত দিয়েছি।

তিনি আরো বলেন সাংবাদিকতার সংজ্ঞা বদল হয়ে গেছে আগে সাংবাদিকতা বলতে যা বুঝাতো এখন তা বুঝায় না। প্রচলিত গণমাধ্যম বলতে যেমন আমরা বিভিন্ন বড় বড় পত্রপত্রিকাকে বুঝতাম এখন কিন্তু গণমাধ্যম বলতে তা বুঝায় না। 

এখন একজন মেধাবী ব্যক্তি তার শয়নকক্ষে বসে শুধু ইউটিউবের প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে তিনি যেমন গ্রাউন্ড তৈরি করতে পারেন যে পরিমাণ মানুষকে প্রভাবিত করতে পারেন আধুনিক অনেক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানও তা পারে না। এমনকি একজন সাধারন বুদ্ধিমান নাগরিক তার সামনে ঘটে যাওয়া কোন ঘটনা কিংবা দুর্ঘটনা মুহূর্তে ক্যামেরা বন্দী করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছরিয়ে দেন তখন প্রচলিত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান তার কাছ থেকেই কিন্তু সংবাদটি সংগ্রহ করে। এমন অনেক কাজ করছেন একজন সৎ এবং বুদ্ধিমান নাগরিক। যাদের কাছে ডিভাইস আছে তারা ইন্টারনেট ক্ষমতার কারণে সিটিজেন জার্নালিজম এখন অনেক বেশি পাওয়ারফুল। 

পরিবর্তনের এই গতির সাথে যদি আপনারা তাল মিলাতে না পারেন তাহলে আপনি গণমাধ্যম কর্মী হিসাবে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়বেন। 

তথ্য মন্ত্রণালয়ে আমি কাজ করতে গিয়ে উপলব্ধি করেছি আমার হাতে একটি বাটন ফোন আর জনগণের চাহিদা ডিজিটাল সার্ভিস।

একটি বাটন ফোন দিয়ে যেমন ডিজিটাল সার্ভিস দেওয়া যায়না। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান রাষ্ট্র কাঠামোর যে তথ্য ব্যবস্থা যে ধরনের অবকাঠামো বিরাজ করে এ ধরনের অবকাঠামো দিয়ে আধুনিক কালের তথ্য সেবা দেওয়ার কোন উপায় নেই । সঙ্গত কারণেই আমাদেরকে অনেক গভীরভাবে চিন্তা করতে হচ্ছে অনেক নতুন নতুন নিয়ম শৃংখলার মধ্যে থাকতেই ।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মুন্সীগঞ্জ-৩ (সদর-গজারিয়া) আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) মৌসুমী মাহবুব, জেলা পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ.কে.এম ইরাদত মানু, ঢাকা চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলাম, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য মো. মোশাররফ হোসেন ও সাবেক মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুজিবুর প্রমুখ।