মিউনিখের অ্যালিয়ানজ অ্যারেনায় রচিত হলো এক মহানাটকীয় রাত। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেও ফাইনালে পৌঁছে গেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৫ অ্যাগ্রিগেটে বায়ার্নকে বিদায় করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোপসেরার মঞ্চে নিজেদের জায়গা করে নিল প্যারিসের ক্লাবটি।
বুধবার (৭ মে) রাতের এই মহারণে ম্যাচের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় বায়ার্ন মিউনিখ। খেলা শুরুর মাত্র ১৩৯ সেকেন্ডের মাথায় পিএসজিকে লিড এনে দেন ব্যালন ডি'অর জয়ী তারকা উসমান দেম্বেলে। বাঁ প্রান্ত থেকে খভিচা কাভারাস্কেইয়ার দুর্দান্ত ক্রস খুঁজে নেয় আনমার্কড দেম্বেলেকে, যিনি নিখুঁত ফিনিশিংয়ে স্বাগতিক গ্যালারিকে স্তব্ধ করে দেন।
গোল হজমের পর বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানির রক্ষণভাগ কৌশল নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিশেষ করে ফুলব্যাকদের পজিশন পরিবর্তন করার সিদ্ধান্তটি বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়। গোল শোধে মরিয়া মাইকেল ওলিসে ও জামাল মুসিয়িলারা দফায় দফায় পিএসজির রক্ষণে হানা দিলেও গোলের দেখা পাচ্ছিলেন না।
ম্যাচের ৮ মিনিটে হলুদ কার্ড পেলেও পিএসজির রক্ষণে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন নুনো মেন্দেস। ওলিসের একটি নিশ্চিত গোল নিজের শরীর দিয়ে প্রতিহত করে দলকে রক্ষা করেন তিনি। অন্যদিকে, পুরো ম্যাচে কাভারাস্কেইয়ার গতি ও ড্রিবলিং বায়ার্ন রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে।
ম্যাচ চলাকালীন রেফারি জোয়াও পেদ্রো পিনহেইরোর কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নুনো মেন্দেসের ফাউলে লাল কার্ড এবং জোয়াও নেভেসের হ্যান্ডবলের পেনাল্টি আবেদন নাকচ করে দিলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বায়ার্ন ফুটবলাররা।
ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে (৯৪ মিনিটে) হ্যারি কেইন গোল করে সমতা ফেরালেও তা কেবল বায়ার্নের হারের ব্যবধানই কমিয়েছে। আরও একবার ট্রফিহীন মৌসুম কাটানোর হাহাকার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় কেইনকে।
আগামী ৩০ মে বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে আর্সেনালের মুখোমুখি হবে পিএসজি। আর্সেনালের সামনে যেখানে ২০ বছরের ইউরোপীয় শিরোপা খরা কাটানোর লক্ষ্য, সেখানে পিএসজির লক্ষ্য নিজেদের রাজসিংহাসন ধরে রাখা।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments