Image description

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। 

শনিবার কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপিশাসিত বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি আজ তাঁর মন্ত্রিসভার প্রথম পাঁচজন সদস্যও শপথ নিয়েছেন। আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রেখে উত্তরবঙ্গ থেকে দু’জন এবং দক্ষিণবঙ্গ থেকে তিনজনকে প্রথম দফায় মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভায় যেমন আদিবাসী প্রতিনিধি রয়েছেন, তেমনই রাখা হয়েছে মতুয়া সম্প্রদায়ের মুখও।

শপথ নেওয়া মন্ত্রীরা হলেন:
১. দিলীপ ঘোষ: (খড়্গপুর সদর কেন্দ্র থেকে বিজয়ী)
২. অগ্নিমিত্রা পাল: (আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে বিজয়ী)
৩. অশোক কীর্তনিয়া: (বনগাঁ উত্তর কেন্দ্র থেকে বিজয়ী — মতুয়া প্রতিনিধি)
৪. ক্ষুদিরাম টুডু: (বাঁকুড়ার রানিবাঁধ কেন্দ্র থেকে বিজয়ী — আদিবাসী প্রতিনিধি)
৫. নিশীথ প্রামাণিক: (কোচবিহারের মাথাভাঙা কেন্দ্র থেকে বিজয়ী)

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে শুভেন্দুর পরেই পর্যায়ক্রমে শপথ নেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু এবং সব শেষে নিশীথ প্রামাণিক। তবে নবনিযুক্ত এই মন্ত্রীদের কার হাতে কোন দপ্তর তুলে দেওয়া হবে, তা এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

গত ৪ মে রাজ্যের ভোটের ফল ঘোষিত হয়েছে। ২০৭টি আসন পেয়ে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। বিজেপি জিতলে মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে সেই প্রশ্নই বার বার ধেয়ে এসেছিল। প্রধানমন্ত্রী থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বিভিন্ন সময়ে বার বার বলেছেন, কোনও বাঙালি এবং বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করা নেতাকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বেছে নেওয়া হবে।

বিজেপি ক্ষমতায় এলে যে শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন, তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা এবং জল্পনা চলছিল রাজনৈতিক মহলে। রাজ্যে যখন গেরুয়া ঝড় উঠল, তখন সেই জল্পনা আরও জোরালো হয়। অবশেষে সেই জল্পনাকে সত্যি করেই শুক্রবার শুভেন্দুকে পরিষদীয় দলনেতা হিসাবে বেছে নেওয়া হয়। দলের সকলের প্রস্তাবে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ। 

বিধায়কদলের বৈঠকের পর শাহ বলেন, ‘‘পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আটটি প্রস্তাব এসেছিল। সব প্রস্তাবে একটিই নাম ছিল। দ্বিতীয় নামের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনও দ্বিতীয় নাম আসেনি। তাই শুভেন্দু অধিকারীকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ঘোষণা করছি।’’