চিকিৎসকের বদলে নৈশপ্রহরী দিয়ে চিকিৎসা, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুইছুড়ি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসকের অনুপস্থিতি, হাজিরা খাতায় ভুয়া স্বাক্ষর এবং চিকিৎসকের বদলে নৈশপ্রহরী দিয়ে চিকিৎসা সেবা প্রদানের অভিযোগে অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় এবং বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় থেকে পৃথকভাবে এই কমিটিগুলো গঠন করা হয়।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি আমলে নিয়ে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। এই কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ মাহাতাব উদ্দীন চৌধুরী। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— কর্ণফুলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মোঃ শাহাদাত হোসেন এবং সদস্য সচিব হিসেবে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. শিব্বির আহমদ প্রিন্স।
অন্যদিকে, বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজমা আক্তার তিন সদস্যের আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। এই কমিটির সভাপতি হিসেবে রয়েছেন বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়ার কনসালটেন্ট (শিশু) ডাঃ মুনির উল্লাহ। সদস্য হিসেবে রয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ পিনাকী দাশ এবং সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মেডিকেল অফিসার ডাঃ ইকরামুল হক। উভয় কমিটিকে আগামী ৫ কর্মদিবসের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি পুইছুড়ি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসকের বদলে নাইট গার্ড কর্তৃক চিকিৎসা দেওয়ার ভিডিও ও সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। হাজিরা খাতায় নিয়মিত উপস্থিতির স্বাক্ষর থাকলেও বাস্তবে ঐ চিকিৎসককে কর্মস্থলে পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। এমনকি ভুয়া স্বাক্ষরের বিষয়টিতে ফরেনসিক পরীক্ষার দাবি তুলেছেন সচেতন মহল।
এর আগেও ঐ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কর্তব্যকাজে অবহেলা ও অনুপস্থিতির অভিযোগে পুইছুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। বর্তমানে এই তদন্ত কমিটির গঠন ও কার্যক্রমের দিকে তাকিয়ে আছেন সংক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments