Image description

পাকিস্তানের অশান্ত খাইবার পাখতুনখওয়া প্রদেশে এক নজিরবিহীন ও ভয়াবহ আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলায় অন্তত ১৫ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। শনিবার রাতে বান্নু জেলার ফাতেহ খেল পুলিশ ফাঁড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পরপরই সশস্ত্র বন্দুকধারীরা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ড্রোন ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে চোরাগোপ্তা হামলা চালায়।

আঞ্চলিক পুলিশ কর্মকর্তা সাজ্জাদ খান ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, সন্ত্রাসীরা বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে পুলিশ ফাঁড়িটিতে সজোরে ধাক্কা দিলে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ফাঁড়িটির ছাদ ধসে পড়ে এবং ভেতরে থাকা ১৫ জন পুলিশ সদস্যই প্রাণ হারান। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩ জন, যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, হামলার সময় ফাঁড়িটিতে ১৮ জন সদস্য দায়িত্বরত ছিলেন। গাড়ি বোমা বিস্ফোরণের পর সন্ত্রাসীরা চারদিক থেকে ঘেরাও করে গুলিবর্ষণ শুরু করে। আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধারে আসা অতিরিক্ত বাহিনীর ওপরও জঙ্গিরা চোরাগোপ্তা হামলা চালায়। এতে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের বেশ কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শক্তিশালী এ বিস্ফোরণে ফাঁড়িতে থাকা একটি সাঁজোয়া যানও ধ্বংস হয়ে গেছে।

এ ন্যাক্কারজনক হামলার দায় স্বীকার করেছে ‘ইত্তেহাদ-উল-মুজাহিদীন’ নামের একটি উগ্রবাদী জঙ্গি জোট। ঘটনার পর থেকে বান্নু শহরের হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। এলাকাটি বর্তমানে নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সেখানে বড় ধরনের তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গত কয়েক মাস ধরে বান্নু জেলায় জঙ্গি হামলার হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ইসলামাবাদ বারবার অভিযোগ করে আসছে যে, আফগান তালেবান সরকার জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে এবং তারা আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানে এসব নাশকতা চালাচ্ছে। তবে কাবুল এ অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে একে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসছে। এ হামলার ঘটনা কেন্দ্র করে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা আবারও চরমে পৌঁছানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই