Image description

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। বৈঠকে তিনি সামরিক কমান্ডারদের শত্রুপক্ষকে শক্ত হাতে মোকাবিলায় বিশেষ ‘নতুন পদক্ষেপ ও করণীয় পথনির্দেশনা’ প্রদান করেছেন।ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সামরিক কমান্ডার আলী আবদুল্লাহির সঙ্গে এই বৈঠকে সর্বোচ্চ নেতা সশস্ত্র বাহিনীর কর্মতৎপরতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে বর্তমান আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে শত্রুদের যেকোনো ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে নতুন কৌশলগত নির্দেশনা দেন তিনি। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে এসব নির্দেশনার বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।

চলতি বছরের মার্চ মাসে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মোজতবা খামেনিকে খুব একটা প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তার অধিকাংশ দিকনির্দেশনা ও বক্তব্য রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে লিখিত বা পূর্ব-রেকর্ডকৃত বার্তার মাধ্যমে প্রচার করা হয়ে থাকে। সামরিক কমান্ডারের সঙ্গে তার এই সাম্প্রতিক বৈঠকটি বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীসহ আঞ্চলিক সংঘাতের আবহে তেহরান তাদের সামরিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) দাবি করেছে, ইরান থেকে ছোড়া দুটি ড্রোন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। ইউএই’র প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত তারা ইরানের ছোড়া ৫৫১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ২৯টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ২৬৫টি ড্রোন প্রতিহত করেছে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় সংযুক্ত আরব আমিরাত সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বলে দাবি করলেও ইরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোর এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে এক জটিল সমীকরণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

মানবকণ্ঠ/আরআই