সাবেক সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি বলেছেন, নতুন সরকারের মাত্র দুই মাসের মাথায় ছাত্রলীগের বর্তমান তৎপরতা এবং তাদের হাত ধরে আওয়ামী লীগের অন্যান্য সংগঠনের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় দেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ সমীকরণ বদলে দিতে পারে।
সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম মাওলা রনি পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে সারা বাংলাদেশে ছাত্রলীগের নতুন নতুন কমিটি গঠিত হচ্ছে এবং সেগুলো প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কমিটি গঠনের পর আনন্দ মিছিলও বের করা হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিছু ক্ষেত্রে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করলেও ছাত্রলীগের সামগ্রিক তৎপরতার তুলনায় তা অত্যন্ত নগণ্য।
রনি তার বিশ্লেষণে আরও বলেন, গত ১৮ মাসে দেখা গেছে ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগের যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিপরীতে ছাত্রদল, বিএনপি, জামায়াত কিংবা এনসিপির পক্ষ থেকে একটি ‘মব’ বা তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ তৈরি হতো। কিন্তু বর্তমানে ছাত্রলীগের এই কর্মকাণ্ডের বিপরীতে ছাত্রদল, শিবির কিংবা এনসিপির মধ্যে তেমন কোনো জোরালো প্রস্তুতি বা প্রতিরোধ দেখা যাচ্ছে না।
আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর বর্তমান কৌশল নিয়ে তিনি বলেন, “ছাত্রলীগ তাদের কমিটি করার পর ইন্টারনেটের প্রোটোকল ব্যবহার করে প্রকাশ্যে মিটিং করছে এবং প্রচারণা চালাচ্ছে। একই চিত্র যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশে অবস্থানরত দলটির নেতাকর্মীরা নিয়মিত এসব ওয়েব মিটিংয়ে অংশ নিচ্ছেন।”
তিনি আরও যোগ করেন, অনেক নেতা বর্তমানে আত্মগোপনে বা স্থানচ্যুত থাকলেও তারা প্রকাশ্যেই কথা বলছেন, যা সাধারণ মানুষ দেখছে।
নতুন সরকারের শুরুর দিকেই আওয়ামী লীগের এই ধরনের তৎপরতাকে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করেন গোলাম মাওলা রনি। তিনি মনে করেন, ছাত্রলীগের এই অগ্রযাত্রা এবং অন্যান্য সংগঠনের সক্রিয় হয়ে ওঠার যে প্রত্যয় দেখা যাচ্ছে, তা আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের রাজনীতির দৃশ্যপটে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসবে।
তার মতে, এই ক্রমবর্ধমান তৎপরতা রাজনীতির সামনের দিনগুলোর চেনা সমীকরণগুলোকে মারাত্মকভাবে ওলটপালট করে দিতে পারে।




Comments