Image description

তামিলনাড়ুর রাজনীতির নতুন অধিপতি থালাপতি বিজয় বিধানসভার অগ্নিপরীক্ষায়ও সফলভাবে উত্তীর্ণ হলেন। বুধবার (১৩ মে) রাজ্য বিধানসভায় আয়োজিত আস্থা ভোটে ১৪৪টি ভোট পেয়ে বড় জয় নিশ্চিত করেছেন নবনিযুক্ত এই মুখ্যমন্ত্রী। বিরোধী শিবিরে ফাটল এবং নাটকীয় ওয়াকআউটের মধ্য দিয়ে বিজয় তাঁর ক্ষমতার ভিত মজবুত করলেন।

জানা গেছে, বিজয়ের নেতৃত্বাধীন দল ‘তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম’ (টিভিকে) সরকার গঠনের পর আজ বিধানসভায় আস্থা ভোটের মুখোমুখি হয়। ভোটাভুটিতে বিজয়ের পক্ষে ১৪৪ জন বিধায়ক সমর্থন জানান। বিপরীতে ভোট পড়েছে মাত্র ২২টি এবং ৫ জন বিধায়ক ভোটদানে বিরত ছিলেন।

ভোটের সময় প্রধান বিরোধী দল ডিএমকে-র ৫৯ জন বিধায়ক অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন। তবে সবচেয়ে বড় চমক ছিল এআইএডিএমকে শিবিরে। দলটির ৪৭ জন বিধায়ক ভোটদান থেকে বিরত থাকার কথা থাকলেও, অন্তত ২৫ জন বিধায়ক দলীয় নির্দেশ অমান্য করে সরাসরি থালাপতি বিজয়কে সমর্থন জানান। এই বিদ্রোহী বিধায়কদের কারণেই বিজয়ের জয় অনেক বেশি সহজ ও নিরঙ্কুশ হয়ে ওঠে। এই ঘটনা এআইএডিএমকে-র অভ্যন্তরে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

জয়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী বিজয় বলেন, টিভিকে-র নির্বাচনী প্রতীক ‘বাঁশির সুর’ তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে সত্যিকারের পরিবর্তনের সূচনা করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সরকার সংখ্যাগত দিক থেকে ছোট হলেও এটি সব সময় সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে কাজ করবে।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের এই জয় কেবল তাঁর ক্ষমতা টিকিয়ে রাখেনি, বরং তামিল রাজনীতির দুই মহীরুহ ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র দীর্ঘদিনের আধিপত্যে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। বিশেষ করে এআইএডিএমকে-র বিদ্রোহী বিধায়কদের সমর্থন বিজয়ের রাজনৈতিক ক্যারিশমাকেই নতুন করে তুলে ধরেছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই