Image description

রাজধানীর চিরচেনা যানজট ও ট্রাফিক বিশৃঙ্খলা রুখতে এবার হার্ডলাইনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে এবার ব্যবহার করা হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি। সিগন্যাল অমান্য করা, উল্টোপথে গাড়ি চালানো কিংবা যত্রতত্র পার্কিং রুখতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে স্থাপন করা হয়েছে স্মার্ট ক্যামেরা। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে এখন থেকে ট্রাফিক আইন ভাঙলেই কোনো ব্যক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা রেকর্ড হয়ে যাচ্ছে।

ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এআই ক্যামেরাগুলো সড়কে প্রতিটি যানবাহনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে। যদি কোনো গাড়ি ট্রাফিক আইন অমান্য করে, তবে ক্যামেরাটি তাৎক্ষণিকভাবে তা শনাক্ত করে। এরপর বিআরটিএ-র ডেটাবেস থেকে ওই গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর অনুযায়ী মালিকের সব তথ্য সংগ্রহ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি মামলার নোটিশ পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এতে একদিকে যেমন ট্রাফিক পুলিশের ওপর শারীরিক চাপ কমছে, অন্যদিকে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হচ্ছে।

বর্তমানে রাজধানীর শাহবাগের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, বিজয় সরণি ও জাহাঙ্গীর গেট মোড়ে এই প্রযুক্তির কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়েছে। এআই ক্যামেরা চালুর প্রথম মাত্র চার দিনেই ৩০০টিরও বেশি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমান বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে পাঁচটি প্রধান ট্রাফিক অপরাধের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। আইন অমান্যকারীদের তথ্য সরাসরি আমাদের সার্ভারে রেকর্ড হয়ে যাচ্ছে। এতে করে চালকদের মধ্যে আইন মানার প্রবণতা বাড়ছে।’

এদিকে সড়কে দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা জানিয়েছেন, এআই প্রযুক্তির কারণে তাদের কাজের চাপ অনেকটাই কমেছে। আগে সিগন্যাল দিলেও অনেকে অমান্য করে চলে যেতেন, কিন্তু এখন ডিজিটাল মামলার ভয়ে চালকরা অনেক বেশি সচেতন। তবে অনেক চালক দাবি করেছেন, এই প্রযুক্তি কার্যকর করার আগে সড়কের ভাঙাচোরা মেরামত এবং সিগন্যাল বাতিগুলোর সঠিক কার্যকারিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ডিএমপি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পুরো ঢাকা শহরে এই প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়া গেলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে এবং সাধারণ মানুষের আইন মানার সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে।

মানবকণ্ঠ/আরআই