আইনজীবীর কালো গাউন পরে সশরীরে কলকাতা হাইকোর্টে হাজির হলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসানের পর শুরু হওয়া ভয়াবহ ভোট পরবর্তী সহিংসতার একটি মামলায় সওয়াল করতে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) তিনি আদালতে উপস্থিত হন। সচরাচর রাজপথে লড়াই করা মমতাকে এদিন দেখা গেল আইনি লড়াইয়ের অগ্রভাগে।
তৃণমূলের সিনিয়র নেতা ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা একটি মামলায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী নিজেই লড়ছেন। এদিন আদালতে দাঁড়িয়ে তিনি রাজ্যের সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিচারপতির কাছে জরুরি সুরক্ষা প্রার্থনা করেন।
শুনানির শুরুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতকে জানান, পেশাদার আইনজীবী হিসেবে কলকাতা হাইকোর্টে এটিই তাঁর প্রথম উপস্থিতি। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় তিনি দাবি করেন, রাজ্যে চলমান সহিংসতার হাত থেকে শিশু, নারী এবং সংখ্যালঘুরাও রেহাই পাচ্ছে না। তিনি আদালতে ১০ জন নিহত ব্যক্তির একটি তালিকা জমা দিয়ে দাবি করেন, তাদের মধ্যে ৬ জনই হিন্দু সম্প্রদায়ের। এ সময় তিনি একটি তফশিলি জাতিভুক্ত পরিবারের ৯২ বছর বয়সী বিধবার ওপর হামলা ও উচ্ছেদের ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে রাজ্যে ঘরবাড়ি ও সম্পত্তি ভাঙচুরের পাশাপাশি ১২ বছরের কিশোরীদেরও ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, ‘পুলিশ কি ঘুমিয়ে আছে?’ তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ কোনো বুলডোজার রাজ্য নয়।’ মাছের বাজার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের ভিটেমাটি ধ্বংস করার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ অপরাধ প্রতিরোধ না করে উল্টো এফআইআর নিতে বাধা দিচ্ছে। সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় বিচারব্যবস্থার সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি বলেন, সত্য ও ন্যায়বিচারের জন্য তাঁর এই লড়াই আমৃত্যু অব্যাহত থাকবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আদালতে হাজিরাকে তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেস অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় হিসেবে দেখছে। এক টুইট বার্তায় দলটি জানিয়েছে, নেত্রীর এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে তিনি বিপদের সময় বাংলার মানুষকে ছেড়ে যান না এবং প্রতিহিংসার রাজনীতির বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই অদম্য।
অন্যদিকে, রাজ্যে ক্ষমতায় বসা বিজেপির পক্ষ থেকে এই সহিংসতাকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দাবি করা হয়েছে। দুই রাজনৈতিক দলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথের হত্যার মতো ঘটনায় বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত। হাইকোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিকে এখন তাকিয়ে আছে গোটা ভারত।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments