বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তি সম্পর্কে জামায়াত আগে থেকে অবগত ছিল—এমন দাবি একেবারেই সঠিক নয়। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনাই করা হয়নি।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে রংপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে যোগদানের আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে কেউ এ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আমাদের সাথে একটা শব্দও উচ্চারণ করেনি। আমি অত্যন্ত দায়িত্ব নিয়েই এ কথা বলছি।"
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি নির্বাচনমুখী দল এবং তারা গণতান্ত্রিক পন্থায় ক্ষমতার পরিবর্তন চায়। তাই তারা নির্বাচনে অংশ নেবে। তবে সাম্প্রতিক দুটি উপ-নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে তিনি দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। যেকোনো পরিস্থিতিতে জনগণকে তাদের ভোটাধিকার রক্ষায় সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সরকারের বিভিন্ন নিয়োগ ও পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার গণভোটের রায়কে অগ্রাহ্য করেছে, যা বাস্তবায়নের জন্য জামায়াত ভেতরে-বাইরে লড়াই চালিয়ে যাবে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনের ৪২টি জেলায় দলীয় লোকজনকে জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ, গভর্নর পরিবর্তন এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনুগত ভিসি-প্রক্টর নিয়োগের মাধ্যমে সরকার মূলত জনগণের সঙ্গে তামাশা করছে। তিনি বর্তমান সরকারকে সতর্ক করে বলেন, "অতীতের সরকারও সবকিছু নিজেদের মতো সাজিয়েছিল, কিন্তু দুদিনের মাথায় তা তছনছ হয়ে গেছে। আল্লাহর পরিকল্পনাই চূড়ান্ত।"
সংসদীয় কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, সংসদে প্রতি মিনিটে জনগণের ১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা খরচ হয়। এটি কোনো তামাশার জায়গা নয়। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় চলা এ সংসদে কেবল জনকল্যাণমূলক কথাই বলতে হবে। তিনি জানান, সরকার ভালো কাজ করলে জামায়াত সহযোগিতা করবে, কিন্তু কোনো অপকর্ম বা জনবিরোধী কাজ করলে তা কঠোরভাবে রুখে দাঁড়াবে।
একনেকে অনুমোদিত ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্পকে স্বাগত জানালেও তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এটি কোনোভাবেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিকল্প হতে পারে না। তিস্তাকে তার পাওনা দিতেই হবে। এ ছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে আঘাত করা মানবতার বিরুদ্ধে চরম অপরাধ।
রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এ টি এম আজম খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবার রহমান বেলাল প্রমুখ। সমাবেশ শেষে আসন্ন রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে মহানগর আমির এ টি এম আজম খানের নাম ঘোষণা করা হয়।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments