Image description

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের জন্য মারাত্মক অপরাধ বা ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ দায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিতর্কিত আইনটি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়েছে। রবিবার রাতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার মেজর জেনারেল আভি ব্লুথ এই অঞ্চলে আইনটি প্রয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক আদেশে স্বাক্ষর করেন।

নতুন এই আদেশ অনুযায়ী, পশ্চিম তীরের সামরিক আদালতগুলোতে যদি কোনো ফিলিস্তিনির বিরুদ্ধে এমন হামলার অভিযোগ প্রমাণিত হয় যেখানে ভুক্তভোগীর মৃত্যু হয়েছে, তবে আদালতকে একমাত্র শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডই প্রদান করতে হবে। তবে বিচারক যদি বিশেষ কোনো পরিস্থিতি বিবেচনা করেন, কেবল তখনই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

এই আইনটি পাস হওয়ার পর থেকেই চরম বৈষম্যমূলক হিসেবে বিশ্বজুড়ে নিন্দিত হচ্ছে। আদেশের শর্তাবলীতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, এটি ইসরায়েলি নাগরিক বা ইসরায়েলের বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না। এছাড়া এই বিচার প্রক্রিয়া শুধুমাত্র সামরিক আদালতে পরিচালিত হবে, যা মূলত ফিলিস্তিনিদের বিচারের জন্য ব্যবহৃত হয়। বিপরীতে, একই অপরাধে কোনো ইসরায়েলি অভিযুক্ত হলে তার বিচার হয় ইসরায়েলের প্রচলিত বেসামরিক আদালতে, যেখানে মৃত্যুদণ্ডের বিধান নেই।

আইনটির আরও একটি বিশেষ শর্ত হলো—হামলাকারীর উদ্দেশ্য হতে হবে ‘ইসরায়েল রাষ্ট্রের অস্তিত্ব’ অথবা ‘সামরিক কমান্ডারের কর্তৃত্ব’ খর্ব করা। বিশ্লেষকদের মতে, এই শর্তটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যা কেবল ফিলিস্তিনিদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য করা সম্ভব।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এবং জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির এক যৌথ বিবৃতিতে এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেন, “৭ অক্টোবরের ঘটনার পর এটি আমাদের নীতির এক কঠোর পরিবর্তন। এখন থেকে কোনো খুনি সন্ত্রাসী আর কারাগারে আরাম-আয়েশ বা বন্দী বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে মুক্তির স্বপ্ন দেখতে পারবে না।”

কট্টর ডানপন্থী নেতা বেন গভির একে তার দলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম এবং তা পূরণ করেছি। আমরা সন্ত্রাসবাদকে পরাজিত করব।”

ইতিমধ্যেই এই বর্ণবাদী ও বৈষম্যমূলক আইনের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের হাইকোর্টে বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন ও রাজনীতিবিদ আপিল করেছেন। আদালত এই বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষকে আগামী ২৪ মে-র মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আইনে উল্লিখিত ‘নির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য’ প্রমাণ করা আদালতে কঠিন হতে পারে। ফলে আইনটি কার্যকর হলেও বিচারকদের হাতে মৃত্যুদণ্ড এড়িয়ে কারাদণ্ড দেওয়ার একটি আইনি পথ খোলা থাকতে পারে। তবুও এই সামরিক আদেশ জারির ফলে পশ্চিম তীরের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।