ধৈর্য ধরুন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবেই: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে উত্তরবঙ্গের মানুষকে আশ্বস্ত করে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, "ধৈর্য ধরুন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা অবশ্যই বাস্তবায়ন হবে। বর্তমান সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সামনে তিনটি প্রধান চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো ফারাক্কা চুক্তি, দ্বিতীয়টি পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প এবং তৃতীয়টি হলো তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন।"
সোমবার (১৮ মে) দুপুরে রংপুরের শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এর আঞ্চলিক পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "আমাদের সরকার গঠনের মাত্র তিন মাস হয়েছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কিছু টেকনিক্যাল ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয় আছে। বর্তমানে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলছে। ইতোমধ্যে একনেকে (ECNEC) পদ্মা ব্যারেজের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, ইনশাআল্লাহ তিস্তা মহাপরিকল্পনার জন্যও হবে। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আপনারা একটু ধৈর্য ধরুন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবেই।"
আসন্ন ফারাক্কা চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আগামী ১১ ডিসেম্বর আমাদের ফারাক্কা চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। আমরা সেই চুক্তিটি আবারও বাস্তবায়ন করতে চাই। এ পর্যন্ত যতগুলো ফারাক্কা চুক্তি হয়েছে, তার মধ্যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯৭৭ সালের চুক্তিটি ছিল সবচেয়ে সময়োপযোগী ও কার্যকর। আমরা সেই চুক্তির আলোকেই এবার নতুন করে কথা বলছি।"
এর আগে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, "তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করার এটি একটি মহৎ উদ্যোগ। প্রধানমন্ত্রী চান এই আয়োজনের মাধ্যমে উঠে আসা খেলোয়াড়রাই আগামীতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।"
অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "সন্তানদের চিকিৎসক বা প্রকৌশলী বানানোর পাশাপাশি যদি তাদের খেলাধুলায় প্রতিভা থাকে, তবে তাদের সুযোগ দিন। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলোয়াড় হিসেবেও তারা দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনতে পারবে।"
রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজার রহমান ডন, পুলিশের রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন এবং জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম।
‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় রংপুর বিভাগের আটটি জেলা (রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও পঞ্চগড়) অংশ নিচ্ছে। প্রতিযোগিতার ইভেন্টগুলোর মধ্যে রয়েছে ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, দাবা, কাবাডি, মার্শাল আর্ট, অ্যাথলেটিক্স ও সাঁতার। বিকেলে প্রতিমন্ত্রী জেলা পর্যায়ে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহেরও উদ্বোধন করেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments