বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী, নেপথ্যে ডলারের দুর্বলতা ও তেলের দাম হ্রাস
মার্কিন ডলারের দুর্বলতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আবার কিছুটা বেড়েছে। তেলের দাম কমায় মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে বৈশ্বিক উদ্বেগ কিছুটা কমেছে, যা স্বর্ণের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবে বন্ডের উচ্চ মুনাফার (ইল্ড) কারণে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির গতি কিছুটা সীমিত রয়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীরা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত পরিস্থিতির দিকেও গভীর নজর রাখছেন।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (১৮ মে) দিনের শুরুতে স্বর্ণের দাম ৩০ মার্চের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে ঘুরে দাঁড়িয়ে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৫৬৭.৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া জুন মাসের ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ০.২ শতাংশ বেড়ে ৪,৫৭২.৪০ ডলারে পৌঁছেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিশ্বের বেশিরভাগ প্রধান মুদ্রার বিপরীতে মার্কিন ডলারের দরপতন হওয়ায় অন্যান্য মুদ্রার বিনিয়োগকারীদের কাছে ডলার-মূল্যে স্বর্ণ কেনা আরও সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে। আমেরিকান গোল্ড এক্সচেঞ্জের বাজার বিশ্লেষক জিম উইকফ বলেন, “মার্কিন ডলার সূচক দিনের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে, যা স্বর্ণের বাজারের জন্য ইতিবাচক। পাশাপাশি অপরিশোধিত তেলের দামও কিছুটা কমেছে।”
ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের তেলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হতে পারে—এমন খবরের পর মার্কিন ডব্লিউটিআই (WTI) ও ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ফিউচার মূল্য ব্যারেলপ্রতি প্রায় ২ ডলার কমেছে। এর আগে ইরান-ইসরায়েল উত্তজনা শুরুর পর তেলের দাম বেড়েছিল, যা মুদ্রাস্ফীতির চাপ তৈরি করেছিল। তেলের দাম কমায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো কঠোর মুদ্রানীতি থেকে সরে আসতে পারে এমন একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
স্বর্ণকে সাধারণত নিরাপদ বিনিয়োগ ও মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে দেখা হয়। তবে উচ্চ সুদের হারের পরিবেশে সুদবিহীন এই ধাতুর আকর্ষণ কিছুটা কমে যায়, কারণ তখন বিনিয়োগকারীরা বেশি মুনাফার আশায় বন্ডের দিকে ঝুঁকে পড়েন। জিম উইকফ আরও জানান, বাড়তে থাকা বন্ড ইল্ড স্বর্ণ ও রুপার বাজারের জন্য কিছুটা নেতিবাচক চাপ তৈরি করতে পারে, যা মূল্যবৃদ্ধির গতি সীমিত করছে।
সোমবার বিশ্বব্যাপী সরকারি বন্ডের দরপতন আরও বেড়েছে। ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড বেড়ে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এদিকে বিনিয়োগকারীদের চাহিদা কিছুটা কমায় জেপি মরগ্যান-এর মতো বড় ব্যাংকগুলো স্বর্ণের দামের পূর্বাভাস কমাতে শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৬ সালের জন্য গড় স্বর্ণমূল্যের পূর্বাভাস প্রতি আউন্স ৫,৭০৮ ডলার থেকে কমিয়ে ৫,২৪৩ ডলারে নামিয়েছে।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট রুপার দাম ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৭.৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম ০.১ শতাংশ বেড়ে ১,৯৭৫.০৫ ডলারে উঠলেও প্যালাডিয়ামের দাম ০.৬ শতাংশ কমে ১,৪০৪.৭৫ ডলারে নেমেছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments