বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ও বিওপি স্থাপনের জন্য ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের কাছে প্রথম দফার জমি হস্তান্তর করেছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকের ১০ দিনের মধ্যে বিএসএফকে আনুষ্ঠানিক জমি হস্তান্তরের এ প্রক্রিয়া শুরু হলো।
বুধবার পশ্চিমবঙ্গের সচিবালয় নবান্নে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রথম দফায় বর্ডার আউটপোস্ট নির্মাণ ও কাঁটাতারের বেড়ার জন্য নির্ধারিত ২৭ কিলোমিটার জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে ৯ জেলার ৩২ একর সরকারি খাসজমি। এ ছাড়া আছে ব্যক্তিগত বা কেনা জমিও। পাঁচ জেলায় ৪৩ একর ব্যক্তিগত জমি কেনা হয়েছে। সব মিলিয়ে ২৭ কিলোমিটার জমির মূল্য পরিশোধ করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বৈঠকে শুভেন্দু বলেন, ‘আজকের দিনটা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক দিন পর বিএসএফ, কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকার এক হয়ে হাত মিলিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় কাজ করছে।’ তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত চার হাজার কিলোমিটার। পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে ২ হাজার ২০০ কিলোমিটার। বাকি রাজ্যে বিএসএফের চাহিদামতো জমি দেওয়া হয়েছে। আমাদের এ রাজ্যে ২ হাজার ২০০-এর মধ্যে ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার কাঁটাতার রয়েছে। ৬০০ কিলোমিটারে কাঁটাতার সম্পূর্ণ করা যায়নি।’
এদিন বাংলাদেশ নিয়ে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, অপরাধ ও অসামাজিক কাজকর্মে যুক্তদের বড় অংশই বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অনুপ্রবেশকারী। তিনি বলেন, ‘আজ থেকে রাজ্যে থ্রিডি ব্যবস্থা চালু হচ্ছে– ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট।’ বিজেপি নেতা বলেন, ‘অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য একটি চিঠি এক বছর আগে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যকে পাঠিয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গের আগের সরকার সিএএর বিরোধিতা করেছে; পাশাপাশি এ আইন কাজে লাগায়নি। আমরা এটি কার্যকর করলাম।’
শুভেন্দু বলেন, সিএএর আওতায় যারা নেই, তারা অনুপ্রবেশকারী। তাদের সরাসরি রাজ্য পুলিশ গ্রেপ্তার করবে, আটক করবে এবং বিএসএফের হাতে হস্তান্তর করবে। বিএসএফ, বিডিআরের সঙ্গে কথা বলে তাদের ডিপোর্টের ব্যবস্থা করবে। অর্থাৎ ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট– এ আইন আজ থেকে কার্যকর হলো।’




Comments