Image description

মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান পরোক্ষ আলোচনা এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির খবর পাওয়া যাচ্ছে, আবার পরক্ষণেই সামনে আসছে পাহাড়সমান মতবিরোধ। ফলে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আসলে কী ঘটছে, তা বোঝা এখন কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের জন্যও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে দূরত্ব ঘোচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি গত তিন দিন ধরে তেহরানে অবস্থান করছেন। তিনি মূলত আমেরিকান প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে ইরানের অবস্থান এবং ইরানের জবাব পাকিস্তানি চ্যানেলের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছেন।

এদিকে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের বহুল প্রতীক্ষিত তেহরান সফর এখনও ঝুলে আছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আলোচনায় বড় ধরনের কোনো সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত তিনি তেহরানে আসছেন না। তবে সফল অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেলে এটি হবে তার দ্বিতীয় তেহরান সফর।

আলোচনার অন্যতম প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে যুদ্ধবিরতির ধরন। ইরানের দাবি স্পষ্ট, প্রথম পর্যায়েই সব রণাঙ্গনে যুদ্ধের সম্পূর্ণ অবসান ঘটাতে হবে। 

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র চাইছে পর্যায়ক্রমে যুদ্ধ বন্ধ করতে, যা নির্ভর করবে আলোচনার পরবর্তী গতিপ্রকৃতির ওপর। এই মৌলিক পার্থক্যের কারণে সমঝোতা প্রক্রিয়া এগোতে পারছে না।

আরেকটি বড় বিতর্কের বিষয় হলো ‘হরমুজ প্রণালী’। ইরান এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটির ওপর তার পূর্ণ সার্বভৌমত্ব প্রসারিত করতে চায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলো এর ঘোর বিরোধী। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি চাহিদার ৩০ শতাংশেরও বেশি এই সংকীর্ণ প্রণালী দিয়ে প্রবাহিত হয়। এর ওপর ইরানের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে বলে মনে করে ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের হাতে জব্দ থাকা নিজস্ব সব সম্পদ ফেরত চাইছে তেহরান। কিন্তু ওয়াশিংটন সেই সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ নিজেদের কাছে রেখে বাকিটা ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শর্তগুলো অত্যন্ত কঠিন:
১. তেহরানের মূল কেন্দ্রটি ছাড়া ইরানের বাকি সব পারমাণবিক স্থাপনা বন্ধ করতে হবে।
২. ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শূন্যে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার করতে হবে।
৩. ইরানের কাছে থাকা ৪০০ কেজির (০.৪ টন) বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠিয়ে দিতে হবে।

ইরান এখন পর্যন্ত ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর বা সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করার মার্কিন শর্তগুলো সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে এটা স্পষ্ট যে, উভয় পক্ষই টেবিলে নিজেদের সর্বোচ্চ সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতা কতটুকু সফল হবে এবং শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষ কোনো একটি মধ্যপন্থা বেছে নেবে কি না, তা আগামী কয়েক দিনের কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর নির্ভর করছে।

সূত্র: আল জাজিরা

__এআর/এমকে