Image description

দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন জার্মান বংশোদ্ভূত সাবেক মার্কিন ফুটবলার টমাস ডুলি। শুক্রবার (২২ মে) সকালে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর ৬৫ বছর বয়সী এই হাই-প্রোফাইল কোচ আজ সকালেই রাজধানী ঢাকায় পৌঁছেছেন।

বাফুফে সূত্রে জানা গেছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী রোববার থেকে জাতীয় দলের অনুশীলন ক্যাম্পে যোগ দেবেন টমাস ডুলি। তিনি বিদায়ী কোচ হাভিয়ের কাবরেরার স্থলাভিষিক্ত হলেন। কাবরেরার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই নতুন কোচ কে হচ্ছেন, তা নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছিল। অবশেষে সান মারিনোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ডুলির হাতে দলের দায়িত্ব তুলে দিল বাফুফে।

খেলোয়াড় হিসেবে টমাস ডুলির ক্যারিয়ার অত্যন্ত বর্ণাঢ্য। মার্কিন সেনাবাহিনীতে কর্মরত বাবা ও জার্মান মায়ের সন্তান ডুলি ১৯৯২ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের হয়ে ৮১টি ম্যাচ খেলেছেন এবং ৭টি গোল করেছেন। তিনি ১৯৯৪ ও ১৯৯৮ সালের ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নেন, যার মধ্যে ১৯৯৮ আসরে তিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র দলের অধিনায়ক। ক্লাব ক্যারিয়ারে তিনি বায়ার লেভারকুজেন ও শালকের মতো বিখ্যাত জার্মান ক্লাবে খেলেছেন। শালকের হয়ে ১৯৯৭ সালে উয়েফা কাপ (বর্তমান ইউরোপা লিগ) এবং এফসি কাইজারস্লাউটার্নের হয়ে ১৯৯০-৯১ মৌসুমে বুন্দেসলিগা শিরোপাও জয় করেন তিনি।

২০০২ সালে কোচিং পেশায় নাম লেখানো ডুলি ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবে ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমানের সঙ্গে কাজ করেছেন। তবে প্রধান কোচ হিসেবে তার সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ফিলিপাইনে। ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তাঁর অধীনে ফিলিপাইন অপরাজিত থেকে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে এবং নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ র‍্যাঙ্কিং অর্জন করে। সবশেষ ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিনি গায়ানা জাতীয় দলের দায়িত্বে ছিলেন, যেখানে তার অধীনে দলটি টানা চার ম্যাচে জয় পায়।

আগামী ৫ জুন ইউরোপের দেশ সান মারিনোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের কোচ হিসেবে অভিষেক হবে ডুলির। এটি হবে ইউরোপীয় কোনো দেশের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ।

বাফুফে জানিয়েছে, এশিয়ান ফুটবলের বাস্তবতা ও সমর্থকদের আবেগ সম্পর্কে ডুলির গভীর ধারণা রয়েছে। তরুণ খেলোয়াড়দের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ দলকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও সফল করে তোলাই হবে তার প্রধান চ্যালেঞ্জ।

এআর/এমকে

এআর/এমকে