সৌদি প্রো লিগ জয়ের আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই ব্যক্তিগত অর্জনে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করলেন আল নাসর তারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো।
মার্কিন বাণিজ্যিক সাময়িকী ‘ফোর্বস’-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি উপার্জনকারী অ্যাথলেটের তালিকায় টানা চতুর্থবারের মতো শীর্ষস্থান দখল করেছেন এই পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড।
২০২৩ সালে ইউরোপ ছেড়ে সৌদি আরবের ফুটবলে পাড়ি জমানোর পর থেকেই আয়ের দিক থেকে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছেন ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকা। গত ১২ মাসে রোনালদোর মোট আয় রেকর্ড ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা। এটি কোনো অ্যাথলেটের জন্য এক বছরে আয়ের নতুন এক রেকর্ড।
আয়ের এই দৌড়ে রোনালদোর চেয়ে বেশ পিছিয়ে আছেন তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি। ১৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১ হাজার ৭২১ কোটি টাকা) আয় নিয়ে তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ইন্টার মায়ামির আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
তালিকায় চমক দেখিয়ে দ্বিতীয় স্থান দখল করেছেন মেক্সিকান বক্সিং তারকা কানেলো আলভারেজ। গত এক বছরে তিনি পকেটে পুরেছেন ১৭০ মিলিয়ন ডলার। শীর্ষ পাঁচের বাকি দুই স্থান দখল করেছেন লস অ্যাঞ্জেলেস লেকার্সের বাস্কেটবল কিংবদন্তি লেব্রন জেমস (১৩৭.৮ মিলিয়ন ডলার) এবং বেসবল তারকা শোহেই ওহতানি (১২৭.৬ মিলিয়ন ডলার)।
ফোর্বস তাদের এই তালিকায় খেলোয়াড়দের আয়ের দুটি প্রধান খাত বিবেচনা করে: ১. মাঠের ভেতরের আয়: বেতন, বোনাস ও প্রাইজমানি। ২. মাঠের বাইরের আয়: স্পন্সরশিপ, বিজ্ঞাপন ও ব্যক্তিগত ব্যবসা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের শীর্ষ ৫০ জন অ্যাথলেট গত ১২ মাসে সম্মিলিতভাবে প্রায় ৪.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছেন। এর মধ্যে ৩ বিলিয়ন ডলার এসেছে মাঠের পারিশ্রমিক থেকে এবং ১.১ বিলিয়ন ডলার এসেছে মাঠের বাইরের বাণিজ্যিক খাত থেকে।
তালিকায় ১৫ নম্বরে আছেন কানসাস সিটি চিফসের কোয়ার্টার ব্যাক প্যাট্রিক মাহোমস (৮৪.৭ মিলিয়ন ডলার)। আলোচিত বক্সার ও ইউটিউবার জেক পল ৭০ মিলিয়ন ডলার আয় করে আছেন ২৩তম স্থানে।
এছাড়া তালিকার শেষ অর্থাৎ ৫০তম স্থানে রয়েছেন ইতালিয়ান টেনিস তারকা ইয়ানিক সিনার, যার আয় ৫৪.৬ মিলিয়ন ডলার।
মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ৪১ বছর বয়সেও আয়ের এই বিশ্বরেকর্ড প্রমাণ করে যে, বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’ এখনও আকাশচুম্বী।




Comments