Image description

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বর্তমানে এক অজ্ঞাত স্থানে আত্মগোপনে রয়েছেন এবং বাইরের বিশ্বের সাথে তার সরাসরি যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজ এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে জানিয়েছে, হামলা এড়াতে তিনি এখন কেবলমাত্র বিশেষ বার্তাবাহক নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর করছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামক মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পর ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের নিরাপত্তাব্যবস্থা চরমভাবে জোরদার করা হয়েছে। ওই হামলায় বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর থেকেই দেশটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সপ্তাহের পর সপ্তাহ সুরক্ষিত বাংকারে অবস্থান করছেন। এমনকি ইরানের অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও এখন সর্বোচ্চ নেতার সঠিক অবস্থান জানেন না এবং তার সাথে সরাসরি কথা বলার কোনো মাধ্যম নেই। খামেনি এখন কেবল বিশ্বস্ত বার্তাবাহকদের মাধ্যমে সাধারণ কিছু নির্দেশনা দিচ্ছেন।

এই যোগাযোগ সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে সম্ভাব্য কূটনৈতিক আলোচনাও বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তেহরানে কোনো প্রস্তাব পাঠানো হলে তার উত্তর পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে। কারণ বার্তাগুলো কয়েক স্তরের মধ্যস্থতাকারী ও এনালগ বার্তাবাহকের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নেতার কাছে পৌঁছাতে হয় এবং সেখান থেকে সিদ্ধান্ত আসতেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, এ বছরের শুরুতে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর তার পুত্র মোজতবা খামেনি স্থলাভিষিক্ত হন। তবে যুদ্ধ শুরুর আগে থেকেই তিনি জনসমক্ষে আসছেন না এবং সম্ভাব্য ‘টার্গেটেড কিলিং’ এড়াতে অত্যন্ত গোপনীয়তা অবলম্বন করছেন। ইরানের এই অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ বিপর্যয় দেশটির নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মানবকণ্ঠ/আরআই