Image description

৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশে এখন পর্যন্ত বিন্দুমাত্র সংস্কার হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আবু হেনা রাজ্জাকি। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি সংস্কার প্রক্রিয়ার স্থবিরতা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।

আবু হেনা রাজ্জাকি বলেন, ‘একটি স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার প্রধান শর্তই হলো পৃথক সচিবালয়। সেই সচিবালয়টি আগে গঠিত হয়েছিল, কিন্তু কেন সেটিকে বিলুপ্ত করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করা হলো? জুলাই সনদ বা ৩১ দফার মধ্যেও এই পৃথক সচিবালয়ের কথা ছিল। তাহলে সেটি কার্যকর না হয়ে বিলুপ্ত হলো কেন?’

তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগের অধীনে রাখার ফলে জনমনে আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের একটি মন্তব্য স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘ইউনূস সাহেব বলেছিলেন ছাত্ররা তার নিয়োগকর্তা। এখন বিচার বিভাগের সচিবালয় বিলুপ্ত করার মানে হলো—বিচারকরা যখন কোনো মন্ত্রীর পাশ দিয়ে হাঁটবেন, তখন তারা মনে করবেন ওই মন্ত্রীই তাদের নিয়োগকর্তা। এ অবস্থায় বিচার বিভাগ কীভাবে স্বাধীন থাকবে?’

এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক দাবি করেন, কেবল বিচার বিভাগকে স্বাধীন করতে পারলেই বাংলাদেশের ৮০ শতাংশ সমস্যা ঠিক হয়ে যেত। সংস্কার না হওয়ার পরিণাম তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সংস্কার না করার অর্থই হলো দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘন অব্যাহত রাখা। আমরা নতুন কিছু না এনে ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার করা মানবাধিকার কমিশনকেই ফিরিয়ে আনলাম। এতে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, দেশে দুর্নীতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে; কেউ করে চলে যাবে, আবার কেউ এসে নতুন করে শুরু করবে।’

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে দেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সুরক্ষিত হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।

মানবকণ্ঠ/আরআই