রাজধানীর প্রধান পশুর হাট গাবতলীতে শেষ মুহূর্তে কোরবানির পশুর দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। হাটে পশুর সরবরাহ চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি থাকলেও শেষ সময়ে ক্রেতা সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা খামারি ও বেপারিরা। বড় অংকের লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে অনেক বিক্রেতা অবিক্রিত পশু ট্রাকে করে পুনরায় বাড়ি ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঈদের দিন সকালে গাবতলী হাট ঘুরে দেখা গেছে এক বিষণ্ণ চিত্র। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর পর্যন্ত দেখা যায়, অনেক বিক্রেতা আক্ষেপ নিয়ে তাদের অবিক্রিত গরু ট্রাকে তুলছেন। মানিকগঞ্জ থেকে আসা এক ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে বলেন, "৫০টি গরু এনেছিলাম, বিক্রি করতে পেরেছি মাত্র ১৮টি। বাকিগুলো ফেরত নিয়ে যাচ্ছি। এবার গরুর সঙ্গে আমরা নিজেরাও কুরবানি হয়ে গেছি।"
বেপারি আব্দুস সাত্তার জানান, তাঁর ৪০টি গরুর মধ্যে ২০টিই অবিক্রিত রয়ে গেছে। যে গরুর দাম দুদিন আগে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা হাঁকানো হয়েছিল, ঋণের টাকা শোধ করার তাগিদে শেষ পর্যন্ত তা ২ লাখ ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে। এছাড়া টানা বৃষ্টি ও কাদার কারণে হাটে গরু অসুস্থ হওয়ার ভয়েও অনেকে পানির দামে পশু ছেড়ে দিয়েছেন। অনেক খামারির দাবি, প্রতিটি বড় গরুতে তাদের লাখ টাকারও বেশি লোকসান হয়েছে।
অন্যদিকে, শেষ মুহূর্তের এই দরপতনে স্বস্তি দেখা গেছে ক্রেতাদের মাঝে। ক্রেতা আবু নাঈম জানান, ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা দাম চাওয়া একটি গরু তিনি মাত্র ২ লাখ ৭০ হাজার টাকায় কিনতে পেরেছেন। অনেক ক্রেতার মতে, ঈদের আগের দিনের তুলনায় গরুর দাম লাখে প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমেছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দেশে কুরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার, যেখানে সম্ভাব্য চাহিদা ছিল ১ কোটি ১ লাখ। চাহিদার তুলনায় পশুর যোগান কয়েক গুণ বেশি হওয়ায় এবং শেষ মুহূর্তে ক্রেতা না থাকায় বাজারে এই ধস নেমেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments