Image description

ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনাসহ ৩০ ঘণ্টার মধ্যে ঝরে গেল ১৩ জনের প্রাণ। এর মধ্যে ৬ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে।

একই দিনে ভোরে ভাটারা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান স্বামী-স্ত্রীসহ চারজন যাত্রী। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) মিরপুর এলাকা থেকে দম্পতির লাশ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাজধানীর ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীসহ চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা হয়েছে এবং দুটি বাস জব্দ করা হয়েছে। বাসচালক ও হেলপারদের পুলিশ খুঁজছে।

তিনি ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, নর্দা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় ইসলাম পরিবহন ও আকাশ পরিবহনের দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন যাত্রী। মঙ্গলবার (২৭ মে) সকাল ৬টা ৫ মিনিটের দিকে প্রগতি সরণির নর্দা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আজিজ সড়কের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এদিকে আজ দুপুরের দিকে রাজধানীর মিরপুর দারুসসালাম হরিরামপুর এলাকার একটি বাসা থেকে নূর মোহাম্মদ হৃদয় (২৫) ও ঝুম আক্তার (১৮) এই দম্পতির লাশ উদ্ধার করে দারুসসালাম থানা পুলিশ।

জানা যায়, তারা স্বামী-স্ত্রী ছিলেন। আনুমানিক ২ থেকে ৩ বছর আগে তারা বিয়ে করেন। প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে, পারিবারিক কলহের জেরে দুইজন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ঝুম আক্তার অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) দেবব্রত কুমার বিশ্বাস হরিরামপুরে দম্পতির লাশ উদ্ধারের ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা কাজ করছেন।

অন্যদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, আজ সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার সলিমুল্লাহ হলের সামনে ফুটপাত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ভবঘুরে ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ। পথচারীরা আনুমানিক ৫০ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় ফুটপাতে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। নিহতের নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি। অসুস্থতাজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ আনা হয়েছে।

হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করা ছয় নবজাতকের মধ্যে একজনের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় এই মামলা করা হয়েছে। মামলায় অবহেলার কারণে শিশুর মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

 ২৭ মে রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে এই ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। স্বজনদের অভিযোগ, ওয়ার্ডে অব্যবস্থাপনা ও এসি বন্ধ থাকার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে।