ঢাবিকে ‘কোচিং সেন্টার’ বলায় প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের ওপর ক্ষুব্ধ সাদা দল
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘কোচিং সেন্টার’ বলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ যে মন্তব্য করেছেন, সেটিকে ‘চরম অবমাননাকর ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল।
আজ শুক্রবার (২৯ মে) এক বিবৃতিতে এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের পডকাস্টে অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ মন্তব্য করেন যে, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি যে পরিমাণ গবেষণা করে, তার কানাকড়িও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় করে না।
তিনি আরও বলেন, দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৃত অর্থে গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এগুলো ‘টিচিং ইউনিভার্সিটি’ বা কোচিং সেন্টারের মতো পরিচালিত হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সাদা দলের বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী ও জাতীয় আবেগ জড়ানো প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে একজন দায়িত্বশীল প্রতিমন্ত্রীর মুখে ‘কোচিং সেন্টার’ শব্দটির ব্যবহার অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। শিক্ষকদের মতে, এই মন্তব্য কোনো ইতিহাস সচেতন মানুষের হতে পারে না, বরং এটি এক প্রকার ‘অর্বাচীন প্রলাপ’।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, “গবেষণা ও প্রকাশনায় দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আজও শীর্ষস্থানে রয়েছে। টাইমস হায়ার এডুকেশন এশিয়া র্যাংকিং অনুযায়ী এটি দেশের অন্যতম শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠান। প্রতি বছর এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্কোপাস (Scopus) এবং ওয়েব অব সায়েন্স ইনডেক্সড জার্নালে অসংখ্য গবেষণাপত্র প্রকাশ করছেন।”
সাদা দলের শিক্ষকরা অভিযোগ করেন যে, ববি হাজ্জাজ ‘অসত্য তথ্যের’ ভিত্তিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনা করেছেন, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তারা মনে করেন, এই মন্তব্যের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় ইতিহাস, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং প্রাক্তনদের চরমভাবে অপমান করা হয়েছে।
বিবৃতিতে শিক্ষকরা বলেন, সরকারের একজন মন্ত্রী হিসেবে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ও দেশবাসীকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। তারা অবিলম্বে এই কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান, অন্যথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান রক্ষার্থে শিক্ষকরা কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন বলে সতর্ক করে দিয়েছেন।




Comments