Image description

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ গুরুতর ও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খান। তিনি দাবি করেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন হান্নান মাসউদ। এমনকি একজন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাকে নিরাপদে বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়ার বিনিময়ে তিনি ৩ কোটি টাকা দাবি করেছিলেন।

বুধবার (৩ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে রাশেদ খান এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনেন। তাঁর এই পোস্টটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করে।

রাশেদ খান তাঁর পোস্টে অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্টের পর রাজধানীর পল্টন এলাকার একটি হোটেলে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আব্দুল হান্নান মাসউদের একাধিক গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাশেদ খানের দাবি অনুযায়ী, একটি বৈঠকে আওয়ামী লীগের একজন সাবেক সংসদ সদস্যকে দেশত্যাগে সহযোগিতা করার বিষয়ে ৪ কোটি টাকার প্রস্তাব আসে। বৈঠক শেষে মাসউদ তাঁর তৎকালীন নিরাপত্তা সহযোগী আব্দুল গাফফার জিসানকে বলেন যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ১ কোটি টাকা দিতে চাইলেও চুক্তিটি অন্তত ৩ কোটি টাকায় চূড়ান্ত করার চেষ্টা করতে হবে। মাসউদ সে সময় মন্তব্য করেছিলেন যে, ওই নেতাদের কাছে প্রচুর নগদ অর্থ রয়েছে এবং তাঁর নিজেরও অর্থের খুব প্রয়োজন।

রাশেদ খান দাবি করেন, মাসউদের এসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের প্রত্যক্ষ সাক্ষী হলেন হাতিয়ার বাসিন্দা আব্দুল গাফফার জিসান। জিসান গণঅভ্যুত্থানের সময় থেকে মাসউদের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন এবং সমন্বয়কদের নানা কর্মকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতেন। তবে হান্নান মাসউদের অর্থের প্রতি অস্বাভাবিক লোভ এবং দ্রুত আচরণগত পরিবর্তনের কারণে জিসান পরবর্তীতে তাঁর সংস্পর্শ থেকে দূরে সরে যান।

হাতিয়া আসনের সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীকে নিয়েও কড়া মন্তব্য করেছেন রাশেদ খান। তাঁর দাবি, হান্নান মাসউদ মোহাম্মদ আলীকে নিজের রাজনৈতিক পথের প্রধান বাধা মনে করতেন। আর সেই কারণেই তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রভাব খাটিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন মাসউদ। রাশেদ খান আরও অভিযোগ করেন যে, হান্নান মাসউদ ব্যক্তিগত আলোচনায় বলতেন—নোয়াখালীর অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে তাঁর কোনো বিরোধ নেই, তাঁর সব ক্ষোভ কেবল মোহাম্মদ আলীর ওপর। এছাড়া নোয়াখালীর রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করতে হলে মোহাম্মদ আলীর মতো অর্থবিত্তের মালিক হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও মাসউদ প্রায়ই আলোচনা করতেন বলে রাশেদ খান উল্লেখ করেন।

এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের এই নেতার বিরুদ্ধে রাশেদ খানের এমন গুরুতর অভিযোগের পর এখন পর্যন্ত আব্দুল হান্নান মাসউদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে জুলাই বিপ্লবের চেতনার ধারক দাবিদার একজন সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে এমন দুর্নীতির অভিযোগে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই