Image description

রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের ৪৮টি জেলার ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। ফলে রাতেও তেমন স্বস্তি মিলছে না, বরং গরমের চাপ দীর্ঘ সময় ধরে অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, শুধু তাপমাত্রা বেশি হওয়াই নয়, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার মধ্যে ব্যবধান কমে যাওয়াইও অস্বস্তিকর এই গরমের অন্যতম কারণ। 

আজ বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ অব্যাহত ছিল। রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই দিনে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৯ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ দিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান ছিল মাত্র ৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, সাধারণত দিনের ও রাতের তাপমাত্রার মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকলে রাতের দিকে পরিবেশ কিছুটা ঠান্ডা হয়। কিন্তু বর্তমানে দেশের বেশিরভাগ এলাকায় এই পার্থক্য ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম। ফলে রাতেও তাপমাত্রা খুব বেশি কমছে না। এ কারণেই মানুষ সার্বক্ষণিক অস্বস্তিকর গরম অনুভব করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনের বেলায় সূর্যের তাপে ভূমি ও অবকাঠামো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাতে তাপমাত্রা পর্যাপ্ত পরিমাণে না কমলে সেই সঞ্চিত তাপ বাতাসে থেকে যায়। এতে দিনের গরম রাতেও বজায় থাকে। নগরাঞ্চলে কংক্রিটের ভবন ও পিচঢালা সড়ক এ পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করে তোলে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বর্তমানে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণও অনেক বেশি। একই সঙ্গে বাতাসের গতি কম থাকায় গরম বাতাস স্থির হয়ে থাকছে। ফলে প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়েও বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে।