Image description

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে এরাওয়ান মন্দিরে ২০১৫ সালে সংঘটিত ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনায় চীনের সংখ্যালঘু উইঘুর সম্প্রদায়ের দুই ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। তবে প্রায় এক দশক পর দেওয়া এই রায় এবং থাই কর্তৃপক্ষের পুরো তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়ে গেছে।

২০১৫ সালের ১৭ আগস্ট ব্যাংককের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত জনপ্রিয় ওই মন্দিরে শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণে বিদেশি পর্যটকসহ অন্তত ২০ জন নিহত এবং ১২০ জনের বেশি মানুষ আহত হন। এই হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের দায়ে বিলাল মোহাম্মদ ও ইউসুফু মিয়েরালি নামের দুই উইঘুর নাগরিককে এই সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হয়েছে। যদিও পুরো বিচার প্রক্রিয়াজুড়েই তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে এসেছেন।

হামলার পর থাই কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে শুরু থেকেই তীব্র সমালোচনা ছিল। পর্যটন খাতের ক্ষতি এড়াতে মাত্র দুই দিনের মাথায় তড়িঘড়ি করে ঘটনাস্থল পরিষ্কার করে মন্দিরটি খুলে দেওয়া হয়, যার ফলে গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট হওয়ার অভিযোগ ওঠে। এছাড়া আশপাশের অনেক সিসিটিভি ক্যামেরাও নষ্ট ছিল। পুলিশ শুরুতে আটক দুজনকে মূল হামলাকারী মানতে নারাজ থাকলেও, পরে তাদের বিরুদ্ধেই সরাসরি অভিযোগ আনে। অবাক করার মতো বিষয় হলো, অপরাধীদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ঘোষিত ৮০ হাজার ডলারের পুরস্কার থাই পুলিশ নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়ে তদন্ত শেষের ঘোষণা দিয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, হামলার এক মাস আগে থাইল্যান্ড থেকে ১০৯ জন উইঘুর নাগরিককে জোরপূর্বক চীনে ফেরত পাঠানোর প্রতিশোধ হিসেবে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। কারণ, মন্দিরটি চীনা পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয় ছিল। তবে তৎকালীন থাই সামরিক সরকার এই দাবি নাকচ করে মানবপাচারকারী বা বিরোধীদের দায়ী করেছিল।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এই বিচার প্রক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করেছে। ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব জুরিস্টস (আইসিজে) জানিয়েছে, অভিযুক্তদের সামরিক হেফাজতে রেখে নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি আদায় এবং উইঘুর দোভাষী সংকটের অজুহাতে বিচারকাজ এক দশকের বেশি সময় ধরে আটকে রাখা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। আদালতে বিলাল মোহাম্মদ সাক্ষ্য দেন যে, তিনি মূলত তুরস্কে যাওয়ার জন্য মালয়েশিয়াগামী এক মানবপাচারকারীর অপেক্ষায় ছিলেন।

তবে বিচারকরা পুলিশের দেওয়া ফোনকল রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করে আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে শিগগিরই আপিল করবেন।

মানবকণ্ঠ/আরআই