টানা তিন দিন ও রাতের ভারী বর্ষণে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলার জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) থেকে শনিবার পর্যন্ত প্রবল বৃষ্টির কারণে সমতল ও পাহাড়ি এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। শনিবার সকালে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলেও বিকেলের পর থেকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং ধীরে ধীরে বৃষ্টি থেমে যায়।
অতিবৃষ্টির ফলে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি একাধিক স্থানে ভূমিধস ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। দার্জিলিং যাওয়ার প্রধান সড়কেও ধস নেমে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। মিরিক যাওয়ার অস্থায়ী দুধিয়া সেতু পানির তোড়ে ভেসে যাওয়ায় শিলিগুড়ি থেকে মিরিক রুটে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
এরই মধ্যে ভারতের ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কও পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও সড়ক পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে। তবে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
প্রবল বর্ষণের কারণে ফুঁসে উঠেছে বালাসন নদী। এই নদীর ওপর হিউম পাইপ দিয়ে নির্মিত দুধিয়া সেতু পানির তীব্র স্রোতে ভেসে গেছে। ফলে শিলিগুড়ি থেকে সিকিমের সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
অন্যদিকে মহানন্দা নদীর কাছে খারসাং থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত তিন লেনের সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসন মহানন্দা ব্যারাজের গেট খুলে দিয়েছে। পাশাপাশি তিস্তা নদীর পানিস্তর ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রেখেছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে কলকাতার আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের আঞ্চলিক কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে উত্তরবঙ্গে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। শনিবার ও রোববারের জন্য রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি জেলায় অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।




Comments