Image description

বিশ্বকাপের অভিষেক আসরে প্রথম ম্যাচে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারার পর কুরাসাওকে নিয়ে খুব বেশি প্রত্যাশা ছিল না। তবে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছে ক্যারিবীয় দ্বীপদেশটি। শক্তিশালী ইকুয়েডরের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে স্মরণীয় এক অধ্যায়ের জন্ম দিয়েছে তারা।

রোববার (২১ জুন) কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচজুড়ে বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য ছিল ইকুয়েডরের। একের পর এক আক্রমণ শানিয়েও কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগ ভাঙতে ব্যর্থ হয় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। এর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল গোলরক্ষক এলয় রুমের।

পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে ইকুয়েডরের একাধিক নিশ্চিত গোলের সুযোগ রুখে দেন রুম। তিনি মোট ১৫টি সেভ করেন, যা বিশ্বকাপের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম সেরা গোলকিপিং প্রদর্শনী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দূরপাল্লার শট, হেড কিংবা বক্সের ভেতরের সুযোগ—সব ধরনের আক্রমণই সফলভাবে প্রতিহত করেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।

বিশ্বকাপে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ সেভের রেকর্ড এখনও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক গোলরক্ষক টিম হাওয়ার্ডের দখলে। ২০১৪ সালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে তিনি ১৬টি সেভ করেছিলেন। ইকুয়েডরের বিপক্ষে ১৫টি সেভ করে সেই রেকর্ডের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন রুম।

ম্যাচের আগে স্পষ্ট ফেভারিট ছিল ইকুয়েডর। তবে শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ, কঠোর পরিশ্রম এবং দুর্দান্ত দলগত পারফরম্যান্সে কুরাসাও তাদের পরিকল্পনা নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করে। ফলে গোলশূন্য ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয় ইকুয়েডর।

এই ড্র কুরাসাওয়ের জন্য শুধু একটি পয়েন্ট নয়, বরং বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের সক্ষমতার শক্ত বার্তা। প্রথম ম্যাচে বড় হারের পর এমন ফল দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়াবে নিঃসন্দেহে। অন্যদিকে, নকআউট পর্বে ওঠার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই পয়েন্ট হারিয়ে হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে ইকুয়েডরকে।

শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে কুরাসাওয়ের খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাসই প্রমাণ করে এই ড্র তাদের কাছে কতটা মূল্যবান। আর সেই ঐতিহাসিক অর্জনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন গোলরক্ষক এলয় রুম, যার অনবদ্য পারফরম্যান্সে বিশ্বকাপের অন্যতম বড় চমকের জন্ম দিল কুরাসাও।

মানবকণ্ঠ/আরআই