মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে বিদ্যমান মতপার্থক্যের জেরে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরাইলকে বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের শক্তির ওপর দাঁড়াতে হবে এবং একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ অস্ত্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) অধিকৃত পশ্চিম তীরের গুশ এতজিওন বসতি ব্লকে রিজার্ভ কমব্যাট অফিসারদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন। নেতানিয়াহু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়া সহায়তার জন্য ইসরাইল কৃতজ্ঞ হলেও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশটির নিজস্ব সামরিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “আমাদের মার্কিন বন্ধুদের কাছ থেকে পাওয়া সমর্থনের জন্য আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। তবে এখন সময় এসেছে এই নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে নিজেদের স্বাধীন অস্ত্র ব্যবস্থা গড়ে তোলার।”
নেতানিয়াহু আরও বলেন, ইসরাইলকে তার সামরিক শক্তি, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি করতে হবে। তার মতে, আত্মনির্ভরশীলতা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দক্ষ সামরিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমেই দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা এবং লেবানন সীমান্তে যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইসরাইলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা অঙ্গনে যে বিতর্ক চলছে, তার মধ্যেই নেতানিয়াহুর এ বক্তব্য সামনে এলো। এর আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসরাইলি সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, তারা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী মিত্রের বিরুদ্ধে অপ্রয়োজনীয়ভাবে আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন।
ভ্যান্স স্মরণ করিয়ে দেন, গত তিন মাসে ইসরাইলের প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ রক্ষণাত্মক অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় সরবরাহ করা হয়েছে এবং এর ব্যয় বহন করেছেন মার্কিন করদাতারা। তিনি বলেন, “ইসরাইলের সমস্যা ডোনাল্ড ট্রাম্প নন। যারা এমনটি মনে করছেন, তারা বাস্তব পরিস্থিতি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারছেন না।”
উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ১৪ দফা একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর ঘোষণা দেয়। ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা’ নামে পরিচিত এই চুক্তি ১৮ জুন কার্যকর হয়। এতে যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভবিষ্যতে ইসরাইল তার প্রতিরক্ষা খাতে আরও বেশি আত্মনির্ভরশীল হওয়ার দিকে মনোযোগ দিতে পারে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র এখনও দেশটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মিত্র হিসেবে বিবেচিত।




Comments