Image description

ডালাস স্টেডিয়ামে জাপানের সমর্থকদের ছিল রঙিন উপস্থিতি। ঢাক-ঢোল আর উচ্ছ্বাসে ভরা গ্যালারিতে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ার স্বপ্ন দেখছিলেন ‘সামুরাই ব্লু’ সমর্থকরা। দলও একসময় এগিয়ে গিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সুইডেন ঘুরে দাঁড়িয়ে সমতা ফেরালে ১-১ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় দুই দলকে।

এই ড্রয়ে এফ গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে জাপান। তবে নকআউটে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। অন্যদিকে, গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নেদারল্যান্ডস শেষ ষোলোতে মুখোমুখি হবে মরক্কোর। দুটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে ২৯ জুন।

একই সময়ে কানসাসে তিউনিসিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নেয় নেদারল্যান্ডস। তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা হয়েছে ডাচরা। জাপান এক জয় ও দুই ড্রয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থেকে নকআউটে উঠেছে। আর চার পয়েন্ট নিয়ে সুইডেন সেরা তৃতীয় স্থানধারী হিসেবে পরের পর্বে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রেখেছে।

১৯৯৮ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলেছিল জাপান। এরপর ২০০৬, ২০১৪ ও ২০২২ সালের আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। উত্তর আমেরিকার এই বিশ্বকাপে সেই হতাশা কাটিয়ে আবারও নকআউট পর্বে জায়গা করে নিল ‘সামুরাই ব্লু’।

শুরু থেকেই ম্যাচে আধিপত্য ছিল জাপানের। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে একের পর এক আক্রমণে সুইডেনের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে তারা। তবে প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা পায়নি।

২১ মিনিটে জুনইয়া ইতোর ক্রস থেকে দাইজেন মায়েদার হেড অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। ৪০ মিনিটে ইউকিনারি সুগাওয়ার দূরপাল্লার শট সহজেই তালুবন্দি করেন সুইডিশ গোলরক্ষক। প্রথমার্ধের শেষ দিকে শুতো নাকামুরার শটও দুর্দান্তভাবে রুখে দেন তিনি। যোগ করা সময়ে সুইডেনের ভিক্টর গিওকেরেস সুযোগ পেলেও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন।

বিরতির পর বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি জাপানকে। ৫৬ মিনিটে রিতসু দোয়ানের চমৎকার পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন দাইজেন মায়েদা। তাতে এগিয়ে যায় জাপান।

তবে সেই লিড মাত্র ছয় মিনিটই ধরে রাখতে পারে তারা। ৬২ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে অ্যান্থনি এলাঙ্গার দুর্দান্ত বাঁ-পায়ের শটে সমতায় ফেরে সুইডেন। ডিফেন্ডারদের ওপর দিয়ে দ্বিতীয় পোস্টের দিকে যাওয়া বল ঠেকাতে গোলরক্ষক জায়ন সুজুকি ঝাঁপ দিলেও সফল হননি।

শেষ সময় পর্যন্ত দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া চেষ্টা চালালেও আর কোনো গোল হয়নি। ফলে ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি।

অন্য ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে নেদারল্যান্ডস। তৃতীয় মিনিটে আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর চার মিনিটের ব্যবধানে ব্রায়ান ব্রবি ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।

দ্বিতীয়ার্ধে ৫৪ মিনিটে হাজেম মাস্তুরি তিউনিসিয়ার হয়ে একটি গোল শোধ করলেও ৬২ মিনিটে তিজানি রেইন্ডার্সের পাস থেকে ইয়ান পল ভ্যান হেকে ডাচদের তৃতীয় গোল করে জয় নিশ্চিত করেন।

এই হারে টানা তিন ম্যাচেই পরাজিত হয়ে কোনো পয়েন্ট ছাড়াই বিশ্বকাপ শেষ করল তিউনিসিয়া। তাদের বিদায় আগেই নিশ্চিত হয়েছিল।