ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে অসাধারণ গোল, রোমাঞ্চকর ম্যাচ ও শিরোপা জয়ের পাশাপাশি লাল কার্ডের ঘটনাও রয়েছে আলোচনায়। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি লাল কার্ড দেখেছে ব্রাজিল। এখন পর্যন্ত ব্রাজিলের খেলোয়াড়রা মোট ১১ বার মাঠ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন।
এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আর্জেন্টিনা। দলটির ফুটবলাররা বিশ্বকাপে ১০ বার লাল কার্ড দেখেছেন। যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে রয়েছে উরুগুয়ে ও ক্যামেরুন। দুই দলের খেলোয়াড়রাই ৯ বার করে লাল কার্ড দেখেছেন।
এ ছাড়া জার্মানি, ইতালি ও নেদারল্যান্ডসের খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপে ৮ বার করে লাল কার্ড দেখেছেন। পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে সফল দলগুলোকেও বিভিন্ন সময়ে শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে মাঠ ছাড়তে হয়েছে।
তুরস্কের বিশ্বকাপ ইতিহাসে লাল কার্ডের সংখ্যা মাত্র দুটি হলেও ঘটনাটি বেশ স্মরণীয়। ২০০২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে এক ম্যাচেই আলপাই ওজালান ও হাকান উনসাল-দুজনই লাল কার্ড দেখেন। ২-১ গোলের সেই হার তুরস্কের বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হয়।
এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ২২টি বিশ্বকাপে রেফারিরা মোট ১৭৭টি লাল কার্ড দেখিয়েছেন। সময়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা যেমন বেড়েছে, তেমনি মাঠে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে রেফারিংও হয়েছে আরও কঠোর।
সবচেয়ে বেশি লাল কার্ড দেখা গেছে ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে। সেই আসরে রেকর্ড ২৮টি লাল কার্ড দেখানো হয়। অন্যদিকে ১৯৫০ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপ এবং ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ শেষ হয়েছিল কোনো লাল কার্ড ছাড়াই।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে হলুদ ও লাল কার্ডের প্রচলন শুরু হয় ১৯৭০ বিশ্বকাপ থেকে। তবে মজার বিষয় হলো, যে আসরে এই নিয়ম চালু হয়েছিল, সেই টুর্নামেন্টে কোনো খেলোয়াড়ই লাল কার্ড দেখেননি।
বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম লাল কার্ড দেখানো হয় ১৯৭৪ সালের পশ্চিম জার্মানি বিশ্বকাপে। তুরস্কের রেফারি দোগান বাবাজান পশ্চিম জার্মানি ও চিলির ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে চিলির ফরোয়ার্ড কার্লোস কাসেলিকে লাল কার্ড দেখিয়ে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো এই শাস্তির প্রয়োগ করেন।
বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত ম্যাচগুলোর একটি ছিল ২০০৬ সালের পর্তুগাল ও নেদারল্যান্ডসের শেষ ষোলোর লড়াই, যা ‘ব্যাটল অব ন্যুরেমবার্গ’ নামে পরিচিত। ওই ম্যাচে রুশ রেফারি ভ্যালেন্তিন ইভানভ চারটি লাল কার্ড দেখান, যা এখনো বিশ্বকাপের এক ম্যাচে সর্বোচ্চ। পর্তুগালের কস্তিনিয়া ও ডেকো এবং নেদারল্যান্ডসের খালিদ বুলাহরুজ ও জিওভান্নি ফন ব্রঙ্কহর্স্ট মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। শেষ পর্যন্ত মানিশের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় পর্তুগাল।
বিশ্বকাপের ফাইনালেও রয়েছে লাল কার্ডের নজির। ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রথমবারের মতো লাল কার্ড দেখানো হয়। পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে আর্জেন্টিনার পেদ্রো মনসন প্রথমে বহিষ্কৃত হন। পরে গুস্তাভো দেজোত্তিও লাল কার্ড দেখলে নয়জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৮৫তম মিনিটে আন্দ্রেয়াস ব্রেমের পেনাল্টি গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে পশ্চিম জার্মানি।




Comments