Image description

রাজধানীর মিরপুর এলাকায় চলছে পানির সংকট। ২০ জুন থেকে এই সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বাধ্য হয়ে রোববার মিরপুরের শেওড়াপাড়ার বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে সড়ক অবরোধ করেন। যানজট সৃষ্টি হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের সরিয়ে দেন। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাভারের ভাকুর্তায় স্থাপিত ঢাকা ওয়াসার ওয়েলফিল্ড প্লান্ট থেকে বৃহত্তর মিরপুর এলাকাবাসীর জন্য পানি সরবরাহ করা হয়। প্রতিদিন ২৫ কোটি লিটার পানি পাওয়ার কথা। কিন্তু শুষ্ক মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে পানির উৎপাদন ক্ষমতা কমতে থাকে। সর্বশেষ সেটা পাঁচ-সাত কোটিতে নেমে আসে। ২০ জুন হঠাৎ করে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্লান্টের পানির উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। 

পশ্চিম শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা মিলন জানান, গত ১০ দিন ধরে পাইপলাইনে কোনো পানি আসে না। ওয়াসার আঞ্চলিক কার্যালয়ে গেলে তারা গাড়িতে করে পানি দেওয়ার জন্য সিরিয়াল দিতে বলে। এভাবে দুদিন পর ছোট এক ট্রলি পানি পাওয়া যায়। 

রাজধানীর মিরপুর এলাকায় ঢাকা ওয়াসার দুটি আঞ্চলিক কার্যালয় রয়েছে। একটি মিরপুর বাঙলা কলেজের পাশে, আরেকটি মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরের পূর্ব পাশে। জানা গেছে, দুটি কার্যালয়ে প্রতিদিন গড়ে ৬শরও বেশি গাড়ির চাহিদা দিচ্ছেন এলাকাবাসী। কিন্তু একেকটি কার্যালয় থেকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১০০ গাড়ি পানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। 

ঢাকা ওয়াসার এক কর্মকর্তা জানান, ওয়াসার কোনো ব্যর্থতার কারণে যদি গ্রাহক পানি না পান, তাহলে বিনামূল্যে গাড়িতে করে পানি সরবরাহ করার নিয়ম রয়েছে। 

তবে গাড়িতে করে যারা পানি নিচ্ছেন, তাদের কাছ থেকে ওয়াসা পানির দাম নিচ্ছে। এক গাড়ির দাম যেখানে ৪০০ টাকা, সেখানে গ্রাহকের কাছ থেকে ৫০০-৬০০ টাকা আদায়েরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

এদিকে ঢাকা ওয়াসা বলছে, বর্তমানে দৈনিক ২৯৫ কোটি লিটার পানি উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে তাদের। বিপরীতে চাহিদা প্রতিদিন এর চেয়ে ৫০-৬০ কোটি লিটার কম। কাজেই পানির কোনো সংকট নেই। 

তাহলে মিরপুর এলাকায় পানির এত সংকট কেন-এমন প্রশ্নে ঢাকা ওয়াসার ভাকুর্তা ওয়েলফিল্ড প্লান্টের নির্বাহী পরিচালক নাফিস ইমতিয়াজ কথা বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। 

অন্যদিকে ঢাকা ওয়াসার তথ্য কর্মকর্তা আব্দুল কাদের বলেন, বর্তমানে পানির কোনো সমস্যা নেই। চাহিদার চেয়ে বেশি উৎপাদনের সক্ষমতা ওয়াসার রয়েছে।