Image description

ভ্রমণ মানেই নতুন জায়গা, নতুন অভিজ্ঞতা এবং কিছুটা স্বস্তির খোঁজ। আর সেই স্বস্তির অন্যতম জায়গা হলো হোটেলরুম। ঝকঝকে বিছানা, সুন্দর সাজসজ্জা আর আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দেখে আমরা প্রায়ই ধরে নিই যে হোটেলের প্রতিটি জিনিসই শতভাগ নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন। এই ধরে নেয়ার মধ্যে লুকিয়ে থাকতে পারে নানা ধরনের রোগ বালাই। তাই হোটেলরুমে থাকা কিছু জিনিস ব্যবহারের আগে একটু সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। অসুস্থতা, দুর্ঘটনা কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা থেকে রক্ষা পেতে যা করা যেতে পারে

কেটলি বা ইলেকট্রিক কেটলি

হোটেলরুমে চা-কফি তৈরির জন্য রাখা ইলেকট্রিক কেটলি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত জিনিসগুলোর একটি। তবে অনেক সময় অতিথিরা কেটলিতে শুধু পানি নয়, ডিম সেদ্ধ করা থেকে শুরু করে নানা ধরনের খাবার গরম করার কাজও করে থাকেন। ফলে কেটলির পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। ব্যবহারের আগে কেটলির ভেতরটা ভালোভাবে দেখে নেওয়া এবং একবার পরিষ্কার পানি ফুটিয়ে ফেলে দেওয়া নিরাপদ অভ্যাস হতে পারে।

গ্লাস, কাপ ও মগ

হোটেলের গ্লাস বা কফি মগ সবসময় যথাযথভাবে জীবাণুমুক্ত করা হয়েছে—এমন নিশ্চয়তা নেই। কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত পরিষ্কারের জন্য শুধু পানি দিয়ে ধুয়ে রাখা বা একই কাপড় দিয়ে মুছে ফেলার অভিযোগও পাওয়া যায়। তাই সম্ভব হলে ব্যবহারের আগে গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নেওয়া ভালো। অনেক ভ্রমণকারী ব্যক্তিগত পানির বোতল বা ট্রাভেল মগ ব্যবহার করাকেই বেশি নিরাপদ মনে করেন।

টেলিভিশনের রিমোট কন্ট্রোল

একটি হোটেলরুমে সবচেয়ে বেশি স্পর্শ করা জিনিসগুলোর মধ্যে টিভির রিমোট অন্যতম। প্রতিদিন বহু অতিথি এটি ব্যবহার করলেও নিয়মিত জীবাণুমুক্ত করার বিষয়টি সবসময় নিশ্চিত হয় না। তাই রিমোট ব্যবহারের আগে জীবাণুনাশক ওয়াইপ দিয়ে মুছে নেওয়া বা ব্যবহারের পর হাত পরিষ্কার করার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে।

কম্বল ও অতিরিক্ত বালিশ

বিছানার চাদর সাধারণত নিয়মিত পরিবর্তন করা হলেও অতিরিক্ত কম্বল, সাজানো কুশন বা আলমারিতে রাখা অতিরিক্ত বালিশ প্রতিবার পরিষ্কার করা হয় না। বিশেষ করে অ্যালার্জি বা ত্বকের সংবেদনশীলতা থাকলে এসব ব্যবহারের আগে সতর্ক থাকা উচিত। প্রয়োজনে হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে নতুন বা পরিষ্কার কম্বল চাওয়া যেতে পারে।

বাথরুমের টয়লেট্রিজ

হোটেলের দেওয়া শ্যাম্পু, লোশন, সাবান বা অন্যান্য টয়লেট্রিজ ব্যবহারের আগে সেগুলোর প্যাকেট সিল করা আছে কি না, তা দেখে নেওয়া ভালো। কিছু হোটেলে পুনরায় ভরাট করা ডিসপেনসার ব্যবহার করা হয়, যা সবসময় স্বাস্থ্যসম্মতভাবে সংরক্ষিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া কঠিন। সংবেদনশীল ত্বক হলে নিজের ব্যবহারের পণ্য সঙ্গে রাখাই সবচেয়ে ভালো।

গ্লাস ডোর ও বাথরুমের মেঝে

হোটেলের বাথরুমে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হলো পিচ্ছিল মেঝে। গোসলের আগে মেঝের অবস্থা দেখে নেওয়া উচিত। এছাড়া কাচের দরজা বা পার্টিশন ঠিকভাবে স্থাপিত আছে কি না, সেটিও খেয়াল করা জরুরি। কোনো ধরনের ফাটল বা ঢিলা অংশ চোখে পড়লে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত।


হেয়ার ড্রায়ার ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম

হোটেলরুমে থাকা হেয়ার ড্রায়ার, আয়রন বা অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহারের আগে সেগুলো ঠিকঠাক কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষা করা উচিত। তার ছেঁড়া, প্লাগ ঢিলা বা অতিরিক্ত গরম হওয়ার মতো সমস্যা থাকলে ব্যবহার না করাই ভালো। বৈদ্যুতিক ত্রুটি থেকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে সতর্কতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মিনিবারের খাবার ও পানীয়

হোটেলের মিনিবারে রাখা খাবার বা পানীয় ব্যবহারের আগে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেখে নেওয়া উচিত। এছাড়া কোনো প্যাকেট আগে খোলা হয়েছে কি না, সেটিও খেয়াল করতে হবে। অনেক সময় অসাবধানতাবশত ব্যবহৃত বা ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যও থেকে যেতে পারে।

দরজার লক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

রুমে প্রবেশের পর সবচেয়ে আগে যে বিষয়টি পরীক্ষা করা উচিত, তা হলো দরজার লক, সেফটি চেইন এবং পিপহোল ঠিকভাবে কাজ করছে কি না। জরুরি নির্গমন পথ কোথায়, সেটিও জেনে রাখা প্রয়োজন। নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা উচিত নয়।

চার্জার পোর্ট ও ইউএসবি সংযোগ

অনেক আধুনিক হোটেলরুমে বিল্ট-ইন ইউএসবি চার্জিং পোর্ট থাকে। তবে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা অজানা ইউএসবি পোর্ট ব্যবহারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। সম্ভব হলে নিজের চার্জার ও অ্যাডাপ্টার ব্যবহার করাই নিরাপদ।

ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক

বর্তমান সময়ে হোটেলের ফ্রি ওয়াই-ফাই একটি বড় সুবিধা হলেও এটি নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণও হতে পারে। পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে অনলাইন ব্যাংকিং, গুরুত্বপূর্ণ পাসওয়ার্ড পরিবর্তন বা সংবেদনশীল তথ্য আদান-প্রদান করা ঝুঁকিপূর্ণ। প্রয়োজনে ভিপিএন ব্যবহার করা যেতে পারে।

হোটেলরুমে থাকা মানেই যে আতঙ্কিত হওয়া, তা নয়। বরং সামান্য সচেতনতা ও কিছু সহজ অভ্যাস আপনার ভ্রমণকে আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করে তুলতে পারে। মনে রাখতে হবে, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তার বিষয়ে কয়েক মিনিটের সতর্কতা অনেক বড় ঝুঁকি এড়াতে সাহায্য করতে পারে। তাই পরবর্তীবার কোনো হোটেলে উঠলে রুমের সৌন্দর্য দেখার পাশাপাশি নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধির বিষয়েও একটু নজর দিন।
মানবকণ্ঠ/এমআর