চট্টগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে লাখো মানুষ
টানা বৃষ্টির পর চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও সাতকানিয়ায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। দুই উপজেলায় প্রায় আট লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। অনেক এলাকায় টানা তিন দিন ধরে ঘরবাড়ি পানির নিচে থাকায় দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট।
বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় পরিবারগুলো আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছে। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষ অভিযোগ করেছেন, এখনও পর্যাপ্ত ত্রাণ ও বিশুদ্ধ পানি পাননি। বাধ্য হয়ে অনেকেই দূর থেকে পানি সংগ্রহ করছেন।
এদিকে সাতকানিয়া ও বাঁশখালীর অধিকাংশ এলাকায় গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ নেই। মোবাইল নেটওয়ার্কও অনেক স্থানে অচল হয়ে পড়েছে। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। বাঁশখালীতে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুসহ ১৩ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগে ১ হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১২ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। বাঁশখালীতে ৪৪ টন চাল ও আড়াই হাজার পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে রাঙ্গুনিয়ায় পাহাড়ি ঢলের তোড়ে একটি সেতু ধসে পড়ায় বান্দরবানের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। চন্দনাইশ, ফটিকছড়ি ও খাগড়াছড়ির বিভিন্ন এলাকাতেও বন্যার কারণে হাজারো মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন এবং খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। সাতকানিয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে দুই বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।




Comments