মার্কিন নৌবাহিনীর নিমিটজ শ্রেণির সুপারক্যারিয়ার ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন টানা ২০০ দিনের বেশি সময় সমুদ্রে থেকে আধুনিক বিমানবাহী রণতরির ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘ অপারেশনাল মাইলফলক অর্জন করেছে। তবে এই দীর্ঘ মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি বহরের ওপর বাড়তে থাকা চাপও সামনে এনেছে।
মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিন জানিয়েছে, চীন ও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা, রাশিয়াকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সামরিক দায়িত্বের কারণে মার্কিন নৌবাহিনীকে বিমানবাহী রণতরিগুলো দীর্ঘ সময় সমুদ্রে মোতায়েন রাখতে হচ্ছে।
ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ থ্রি-এর ফ্ল্যাগশিপ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো নৌঘাঁটি থেকে যাত্রা শুরু করে। প্রথমে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মোতায়েনের পরিকল্পনা থাকলেও পরে এটি দক্ষিণ চীন সাগর, ভারত মহাসাগর হয়ে উত্তর আরব সাগরে পৌঁছে। পরবর্তীতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযানে রণতরিটির এয়ার উইং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
জাহাজটির কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার অ্যালেক্সিস ট্রাভিসের দাবি, আধুনিক বিমানবাহী রণতরিগুলোর মধ্যে টানা সমুদ্রে অবস্থানের ক্ষেত্রে এটি নতুন রেকর্ড। যদিও ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড দীর্ঘ সময় মোতায়েন ছিল, তবে সেই সময়ে জাহাজটি একাধিকবার বন্দরে নোঙর করেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, আব্রাহাম লিংকনের দীর্ঘ মোতায়েন মার্কিন নৌবাহিনীর ক্রমবর্ধমান চাপের প্রতিফলন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কার্যকর বিমানবাহী রণতরির সংখ্যা ১১টিতে সীমাবদ্ধ। একই সঙ্গে পুরোনো নিমিটজ শ্রেণির জাহাজগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ, শিপইয়ার্ডে বিলম্ব এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা দায়িত্ব বহরের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা, দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থানের ফলে নাবিকদের ক্লান্তি ও মানসিক চাপ বাড়ছে। পাশাপাশি জাহাজের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি এবং যুদ্ধবিমান দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ায় বন্দরে ফেরার পর ব্যাপক রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হচ্ছে।




Comments