Image description

বিশ্বজুড়ে প্রভাব বিস্তারকারী অত্যন্ত ধনী ও আধুনিক রাষ্ট্র কাতারের রূপান্তরের কারিগর শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানিকে দোহায় সমাহিত করা হয়েছে। স্থানীয় সময় রবিবার(১২ জুলাই) সকালে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এরপর রাজধানী দোহার ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব মসজিদে মাগরিবের নামাজের পর তার জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

জানাজার সময় কাতারি ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত শোকাহত মানুষ শেখ হামাদের কাফন-মোড়ানো মরদেহের দিকে মুখ করে হাত বেঁধে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়েছিলেন। এরপর তার ছেলে ও উত্তরসূরি আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানিসহ পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরা তার মরদেহ মসজিদ থেকে বাইরে নিয়ে আসেন। শেখ হামাদকে দোহার উত্তরে অবস্থিত লুসাইল কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

আল জাজিরার সাংবিাদিক জেইন বাসরাভি জানান, অনুষ্ঠানটি ছিল অত্যন্ত ‘সাধারণ’ এবং শেখ হামাদকে একটি ‘সাধারণ কবরে’ সমাহিত করা হয়েছে। বাসরাভি বলেন, এই সরলতা যেমন ইসলামি ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তেমনি এটি ‘ফাদার আমির’-এর জীবনযাপনেরও প্রতিফলন। তিনি জাগতিক ঐশ্বর্য বা আড়ম্বরের তোয়াক্কা না করে বরং নিজের জনগণের কল্যাণের ওপরই বেশি মনোনিবেশ করেছিলেন।

১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত শেখ হামাদের শাসনামলে কাতারের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ২৪ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পায়; এর পেছনে প্রধান কারণ ছিল দেশের বিশাল গ্যাস সম্পদের উন্নয়নে তার বিশেষ মনোযোগ। ২০০৬ সালের মধ্যেই এই ক্ষুদ্র দেশটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিতে বিশ্বের শীর্ষস্থানে পৌঁছে যায়।

তিনিই ছিলেন একমাত্র আরব নেতা যিনি ২০১২ সালে গাজার ওপর আরোপিত অবরোধ ভেঙে সেখানে সফর করেছিলেন। এদিকে তার মৃত্যুতে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কুয়েত চার দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে। এ সময় উপসারগরীয় এই দেশ দুটিতে সব সরকারি দপ্তর এবং বিদেশে অবস্থিত দেশটির দূতাবাস ও কূটনৈতিক মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।

সূত্র: আলজাজিরা।
মানবকণ্ঠ/এমআর