Image description

সক্রিয় মৌসুমি বায়ু এবং ভারতের মেঘালয়-আসামে ভারী বৃষ্টির প্রভাবে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আবারও বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে সুরমা, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদীর পানি চারটি পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। আগামী কয়েক দিনে সিলেট, সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও শেরপুরের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বা স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মঙ্গলবার ও বুধবার চট্টগ্রাম বিভাগ ছাড়া দেশের বাকি সাত বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতারও আশঙ্কা রয়েছে।

সোমবার সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জের ছাতক পয়েন্টে, কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে এবং সোমেশ্বরী নদীর পানি নেত্রকোনার কলমাকান্দা পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হয়। আগামী তিন দিনে এসব নদীর পানি আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।

সুনামগঞ্জে ইতোমধ্যে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আবারও বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে। ছাতক উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে নেত্রকোনার কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। সড়ক তলিয়ে যাওয়া ও ভেঙে পড়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ২০০ হেক্টর আমনের বীজতলা, বালুতে ঢেকে গেছে কৃষিজমি এবং শতাধিক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।

শেরপুরেও পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বেড়েছে। নালিতাবাড়ীতে চেল্লাখালী নদীর ওপর একটি বেইলি সেতু ভেঙে পড়ায় কয়েকটি গ্রামের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

এদিকে উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে। নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে নদীটির পানি বিপৎসীমার মাত্র ৫ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইসগেট খুলে রাখা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী দুই দিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। পাশাপাশি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে সাময়িক জলাবদ্ধতারও আশঙ্কা রয়েছে।