Image description

ভারতের আসামে বন্যা পরিস্থিতি আরও সংকটজনক রূপ নিয়েছে। নতুন করে রাজ্যটিতে আরও ৩১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টাতেই মারা গেছেন অন্তত ২১ জন। 

আসাম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বলছে, রাজ্যের ১৬টি জেলায় ৫.৬৪ লাখেরও বেশি মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এছাড়া, বন্যার পানিতে ২৪ হাজার ২১০.৩৫ হেক্টর ফসলি জমি ডুবে গেছে। এছাড়া, ৪৪টি রাজস্ব সার্কেলের অধীন ৮৭২টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দুর্গত এলাকাগুলোতে স্থানীয় প্রশাসনের খোলা ২৭৩টি ত্রাণ শিবির ও ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে বর্তমানে ১.১৪ লাখেরও বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

বন্যাকবলিত অঞ্চলগুলোতে ভারতীয় সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে উদ্ধার ও ত্রাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

গত ১৯ জুলাই জোড়হাট জেলার টিয়ক রাজস্ব সার্কেলের সেলেং চা বাগানের কাছে সেলেং ঘাট থেকে পাঁচজনকে উদ্ধার করে এনডিআরএফ। পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া বাড়ির ছাদ থেকে এক তরুণী, তীব্র স্রোতে ভেসে যেতে থাকা এক ব্যক্তি এবং বন্যার পানিতে আটকে থাকা তিন নারীকে উদ্ধার করেন উদ্ধারকারীরা।

দীর্ঘ সময় ঠাণ্ডা পানিতে আটকে থাকার কারণে তীব্র হাইপোথার্মিয়ায় (শরীরের তাপমাত্রা মারাত্মক কমে যাওয়া) আক্রান্ত একজন বৃদ্ধাকে সংকটজনক অবস্থায় পাওয়া উদ্ধার করা হয়। দলটি পাঁচজনকেই নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয় এবং বিশেষ করে ওই বৃদ্ধাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য ত্রাণ কেন্দ্রে পাঠায়।

এদিকে বন্যা ও ত্রাণ কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে বুধবারে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলো সফর করার কথা মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার।

সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, উজান এলাকায় মেঘভাঙা বৃষ্টির কারণে আসামের সাম্প্রতিক বন্যা আমাদের মানুষের ওপর চরম দুর্ভোগ ডেকে এনেছে। ত্রাণ কার্যক্রম পর্যালোচনা করতে আমি চরাইদেও, নাজিরা, শিবসাগর, সোনাড়ি, জোড়হাট এবং টিয়কের বন্যা দুর্গত এলাকা ও ত্রাণ শিবিরগুলো পরিদর্শন করব।

তথ্যসূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
মানবকন্ঠ/এমআর