Image description

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদকের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর দীর্ঘ এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন মেঘমল্লার বসু। তিনি বলেছেন, ছাত্র ইউনিয়ন তাকে যে রাজনৈতিক পরিসর ও নেতৃত্বের সুযোগ দিয়েছে, তার প্রতিদান তিনি দিতে পারেননি।

শনিবার (২৫ জুলাই) নিজের ফেসবুক পোস্টে মেঘমল্লার বসু লেখেন, ২০১৩ সালে এসএসসি পরীক্ষার পর ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনের আগে স্বতন্ত্র জোটের সঙ্গে কাজ করতে ছাত্র ইউনিয়নের দায়িত্ব ছাড়লেও কয়েক মাস পর আবার সংগঠনে ফিরে আসেন।

তিনি জানান, ছাত্র ইউনিয়নে ফিরে আসার পরের ছয় বছর তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। সংগঠনের ভাঙন, প্রাতিষ্ঠানিক অস্বীকৃতি এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। তার ভাষায়, দীর্ঘ লড়াইয়ের পর এখন ছাত্র ইউনিয়নের নাম উচ্চারিত হলে মানুষ তাদের ধারাকেই চেনে, যা তাকে আত্মতৃপ্তি দেয়।

পোস্টে মেঘমল্লার বসু লেখেন, “যা পেয়েছি তার কিছুই শোধ করে যেতে পারিনি। ছাত্র ইউনিয়ন যেভাবে আমার মতো একজন আনঅর্থোডক্স অ্যাক্টিভিস্টকে রাজনৈতিক স্পেস দিয়েছে, নেতৃত্বে নিয়ে এসেছে, সেটা শুধু ছাত্র ইউনিয়ন বলেই সম্ভব হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, ছাত্র ইউনিয়ন তার কাছে একটি রাজনৈতিক শিক্ষার প্রতিষ্ঠান। সংগঠন ছেড়ে গেলেও সেখান থেকে পাওয়া আদর্শ ও শিক্ষা আজীবন তার মধ্যে বহমান থাকবে।

পোস্টের শেষদিকে মেঘমল্লার বসু বলেন, স্বৈরাচার, সাম্রাজ্যবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ছাত্র ইউনিয়নের লড়াই অব্যাহত থাকবে। নতুন প্রজন্ম সেই সংগ্রামের দায়িত্ব তুলে নেবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সবশেষে প্রায় ১৩ বছরের রাজনৈতিক যাত্রার স্মৃতিচারণ করে তিনি সহযোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং প্রয়াত কমরেড সাদাত মাহমুদ ও রেজাকে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের দীর্ঘায়ু কামনা করে তিনি লেখেন, “মেঘমল্লার বসু, সাইনিং অফ।”