Image description

সমাজে বেড়ে চলা নেতিবাচক মানসিকতা, পরনিন্দা ও অযাচিত সমালোচনার সংস্কৃতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের বরেণ্য অভিনেতা ও পরিচালক আফজাল হোসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, ‘অসভ্যতা করাকে এখন বাহাদুরি মনে করা হয়।’

আফজাল হোসেন লিখেছেন, চারপাশে এখন সন্দেহ, অসন্তুষ্টি, স্বার্থপরতা এবং অন্যকে ছোট করে দেখার প্রবণতা বাড়ছে। ভালো কোনো সংবাদ মানুষকে গর্বিত করার বদলে মন্দ খবর ও সমালোচনাই যেন বেশি আনন্দ দেয়।

তিনি বলেন, “পরনিন্দা, সমালোচনা আমাদের উজ্জীবিত রাখে। অবিশ্বাসে মনে সুখ পাই। গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠার জন্য সগৌরবে অসভ্যতা করি। অসভ্যতা করাকে এখন বাহাদুরি মনে করা হয়। মনে হয়, অনেকেই যেন মায়ের পেট থেকেই বিচারক হয়ে বেরিয়েছি।”

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে আফজাল হোসেন জানান, কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার একটি একক সংগীতানুষ্ঠান উপস্থাপনার দায়িত্ব পাওয়ার পর অনেকেই তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, রুনা লায়লা সত্যিই গান গাইবেন, নাকি শুধু ঠোঁট মিলিয়ে অভিনয় করবেন। তার ভাষায়, এ ধরনের প্রশ্ন একজন কিংবদন্তি শিল্পীর প্রতি অশ্রদ্ধারই বহিঃপ্রকাশ।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সাফল্য নিয়েও মানুষের নেতিবাচক মনোভাবের সমালোচনা করেন তিনি। ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ সিনেমা কান চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হওয়ার সময় অনেকে সেটি অর্থের বিনিময়ে সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন আফজাল হোসেন। তার মতে, এসব মন্তব্য মানুষের হীনমন্যতা ও অযৌক্তিক সন্দেহপ্রবণতার পরিচয় বহন করে।

বাংলাদেশিদের হিমালয় জয় কিংবা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে দেশের সাফল্যের খবরও অনেকের কাছে গুরুত্ব পায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি। এর কারণ হিসেবে সমাজে চটকদার ও নেতিবাচক খবরের প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহকে দায়ী করেন এই অভিনেতা।

স্ট্যাটাসের শেষাংশে আফজাল হোসেন লেখেন, শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনেই দেশের পরিবর্তন সম্ভব নয়। “দেশের মানুষ বদলালে তবেই দেশ বদলাবে”—এমন মন্তব্য করে তিনি সবাইকে ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।