স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির বিএনপিকে ফ্যাসিবাদী দল হিসেবে যে মন্তব্য করেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যাচার। এ ধরনের বক্তব্য বাস্তবতাবিবর্জিত এবং যারা এমন মন্তব্য করছেন, তাদের বিএনপির গঠনতন্ত্র সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই। এ কারণে তিনি সংশ্লিষ্টদের বিএনপির গঠনতন্ত্র পড়ে দেখার আহ্বান জানান।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় বিআরডিবির রংপুর বিভাগীয় দপ্তরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “বিএনপি পাঁচবার জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করেছে। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়েই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে, কোনো ধরনের জুলুম বা ফ্যাসিবাদী কায়দায় ক্ষমতায় আসেনি। তাই বিএনপিকে ফ্যাসিবাদী দল বলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সত্যের অপলাপ।”
রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির সম্ভাব্য মনোনয়ন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটি নেবে। দল যাকে সবচেয়ে যোগ্য, দক্ষ ও দায়িত্বশীল মনে করবে, তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। এ বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে তার কোনো মন্তব্য নেই বলেও তিনি জানান।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ এবং বেসরকারি চাকরিজীবীদের প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কিছু পরিকল্পনা করছে। এটি নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব বিষয়। এ প্রক্রিয়ায় বিএনপি কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করছে না।
উত্তরাঞ্চলকে কৃষিতে এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতার কথা জানান তিনি। বলেন, আধুনিক কৃষি পদ্ধতি ছড়িয়ে দিতে আলাদা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। কৃষিভিত্তিক ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
এর আগে সকালে রংপুর নগরীর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে আয়োজিত পল্লী মেলার উদ্বোধন ও বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী। পরে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বিআরডিবির বিভাগীয় দপ্তরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন তিনি।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী উপকারভোগীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা এবং ঋণের চেক বিতরণ করেন। তিনি বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে সমবায়ভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আত্মকর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। বিআরডিবির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার মাধ্যমে গ্রামীণ উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে পল্লী উন্নয়ন একাডেমির সচিব, বিআরডিবির মহাপরিচালক, জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিআরডিবির বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরা হয় এবং উপকারভোগীরা সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
মানবকণ্ঠ/এমআর




Comments