Image description

প্রায় আড়াই বছর ধরে কারাবন্দি আছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ইমরান খান। দীর্ঘদিন কারাগারে অবস্থানের কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। বিশেষ করে ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য সামনে আসার পর বিষয়টি নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ইমরান খানকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কপিল দেব, সুনীল গাভাস্কার ও সৌভর গাঙুলীর মতো কিংবদন্তিরা। ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন সৌরভ গাঙুলীর প্রত্যাশা, পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক যথাযথ চিকিৎসা ও প্রাপ্য সম্মান পাবেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে গাঙুলী বলেছেন, ‘আমি আশা করি, তাঁর স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে এবং তিনি সঠিক চিকিৎসা পাবেন। পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অধিনায়ক এবং পরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি পাকিস্তানকে বিশ্ব মানচিত্রে তুলে ধরেছেন। তাই তাঁকে অবশ্যই দেখভাল করা উচিত এবং সম্মান দেওয়া উচিত।’

সৌরভ গাঙুলীর আগে সুনীল গাভাস্কার, কপিল দেবসহ বিভিন্ন দলের আরও ১৪ সাবেক অধিনায়ক পাকিস্তান সরকারের কাছে এক যৌথ আবেদন করেন। ওই আবেদনে ইমরান খানের উন্নত চিকিৎসা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান তারা।

শুধু চিকিৎসার অনুরোধ নয়, পাশাপাশি ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের আইনি ও মানবিক সুরক্ষার দাবিও জানান তারা। ক্রিকেট বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সাবেক অধিনায়করা তাদের আবেদনে কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছেন—ইমরান খান যেন তাঁর পছন্দের যোগ্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছ থেকে ‘অবিলম্বে, পর্যাপ্ত এবং ধারাবাহিক চিকিৎসা’ পান, যাতে তাঁর স্বাস্থ্যগত সমস্যাগুলোর সমাধান হয়।

পাশাপাশি তারা ‘আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ কারাবাসের পরিবেশ’-এর নিশ্চয়তা চেয়েছেন। এর মধ্যে আছে নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাতের সুযোগ। সেই সঙ্গে ‘অযথা বিলম্ব বা বাধা ছাড়া ন্যায্য ও স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়ায় প্রবেশাধিকার’ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

সাবেক অধিনায়কদের ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তাঁর (ইমরান) স্বাস্থ্যের বিষয়ে সাম্প্রতিক প্রতিবেদন—বিশেষ করে হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার দৃষ্টিশক্তির উদ্বেগজনক অবনতি—এবং গত আড়াই বছরে তাঁর কারাবাসের পরিবেশ আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে।”

ওই বিবৃতিতে ক্রিকেটার ইমরানের অবদান, ক্রিকেটের বাইরের জীবনসহ সার্বিক বিষয় তুলে ধরে সাবেক অধিনায়কের লিখেছেন, ‘আমরা কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই— এখন সেই চেতনাকে সম্মান জানিয়ে শালীনতা ও ন্যায়বিচারের নীতিগুলো বজায় রাখা হোক। এই আবেদনটি ক্রীড়াসুলভ মানসিকতা ও সাধারণ মানবতার চেতনা থেকে করা হয়েছে; কোনো আইনি প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে পক্ষপাত করা হয়নি।’

ওই বিবৃতিতে গাভাস্কার ও কপিল দেব ছাড়াও স্বাক্ষর করেছেন গ্রেগ চ্যাপেল, মাইকেল আথারটন, অ্যালান বোর্ডার, মাইকেল ব্রেয়ারলে, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্দা ক্লার্ক, ডেভিস গোয়ার, কিম হিউজেস, নাসের হুসেইন, ক্লাইভ লয়েড, স্টিভ ওয়াহ এবং জন রাইট।