Image description

অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপে মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও বেশি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে থাকা ইরানি নারী ফুটবলাররা অবশেষে স্বদেশে ফিরেছেন। নানা নাটকীয়তা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন শেষে বুধবার (১৮ মার্চ) তুরস্ক সীমান্ত দিয়ে তারা ইরানে প্রবেশ করেন। সেখানে হাজারো মানুষের ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হন এই ফুটবলাররা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই এশিয়ান কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিল এই নারী দলটি। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় খেলোয়াড়দের নীরব থাকা দেশটিতে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন তাদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবেও আখ্যা দেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ইরানি এবং খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দলটিকে অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

এক পর্যায়ে অধিনায়ক জাহরা ঘানবারিসহ সাতজন সদস্য অস্ট্রেলিয়াতেই থেকে যাওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিলেও, শেষ মুহূর্তে পাঁচজন সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, দেশে থাকা খেলোয়াড়দের পরিবারের ওপর সরকারের পক্ষ থেকে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে তাদের ফিরতে বাধ্য করা হয়েছে। তবে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদী তাজ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো অস্ট্রেলীয় পুলিশের ওপর খেলোয়াড়দের প্ররোচিত করার পাল্ট অভিযোগ তুলেছেন।

বুধবার গুরবুলাক-বাজারগান সীমান্ত দিয়ে ফুটবলাররা ইরানে প্রবেশ করলে নারী-শিশুসহ সর্বস্তরের মানুষ তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এই মুহূর্তের ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ এক বার্তায় লিখেছেন, ‘এই মেয়েরা মাতৃভূমির অকুতোভয় সন্তান। তারা শত্রুদের বিভ্রান্তি ও ভীতি জয় করে ফিরে এসেছে।’

অবশ্য দলের অধিকাংশ সদস্য ফিরলেও দুজন খেলোয়াড় শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়াতেই থেকে গেছেন। তারা স্থানীয় পেশাদার ক্লাব ‘ব্রিসবেন রোয়ার’-এ যোগ দিয়েছেন এবং ইতোমধ্যে অনুশীলন শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাজধানী তেহরানের ভালিআসুর স্কয়ারে ফিরে আসা ফুটবলারদের জন্য বড় ধরনের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ইরান সরকার।

মানবকণ্ঠ/ডিআর