২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনে বিশ্বকাপ ফুটবলের ড্র অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়া ফিফার ‘শান্তি পুরস্কার’ (Peace Prize) বিশ্বজুড়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে ট্রাম্পের ওই পদক বাতিলের দাবি তুলেছে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন (এনএফএফ)।
নরওয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লিসে ক্লাভেনেস সাফ জানিয়েছেন, ফুটবলের সঙ্গে সম্পর্কহীন কাউকে এমন পুরস্কার দেওয়া ফিফার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতিমালার পরিপন্থী। তিনি বলেন, “আমরা চাই এই পুরস্কার বাতিল করা হোক। এমন পুরস্কার দেওয়া ফিফার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। ড্র অনুষ্ঠানে এই সিদ্ধান্তটি ফিফার ভেতরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই নেওয়া হয়েছে।”
অস্ট্রেলীয় মিডফিল্ডার জ্যাকসন আরভিনও ফিফার এই পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি মনে করেন, ট্রাম্পকে এই পুরস্কার দেওয়া ফিফার মানবাধিকার সনদের প্রচেষ্টাকে ‘উপহাস’ করার শামিল। আরভিনের মতে, এমন সিদ্ধান্ত ফুটবলকে সমাজ ও তৃণমূল থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে এবং খেলাটির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করে।
এদিকে, নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন কেবল পুরস্কার বাতিলের দাবিতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; তারা ২০২৬ বিশ্বকাপের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে ম্যাচ চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন সংস্থা ‘আইসিই’ (ICE) যেন সাধারণ দর্শকদের লক্ষ্যবস্তু না বানায়, সে বিষয়ে ফিফাকে নিশ্চিত করার চাপ দিচ্ছে তারা। ক্লাভেনেসের দাবি, বিশ্বকাপ হওয়া উচিত সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরাপদ।
উল্লেখ্য, নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তা না পাওয়ায় ফিফার এই পুরস্কারকে ট্রাম্পের জন্য ‘সান্ত্বনা’ হিসেবে দেখছেন অনেকে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ৩০ এপ্রিল ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা কংগ্রেসে নরওয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পুরস্কারের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদ জানাবে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments